Monday, 10 June 2013

রাজপথে পুড়ছেন মওদুদ

:: পরিবর্তন প্রতিবেদক :: 
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে রক্ষা পেলেও মওদুদ আহমেদকে ছাড়ছেন না দলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুর ১ টার দিকে মওদুদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তারা নয়াপল্টনের স্কাউট মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটায়।

২০ মে কর্নেল আবু তাহেরের (বীর উত্তমের) বিচার নিয়ে হাইকোর্ট রায় দেয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ওই বিচারের রায়ে মওদুদ আহমেদের বইয়ের রেফারেন্স টানা হয়েছে।

মওদুদ আহমদের 'ডেমোক্রেসি এন্ড দ্যা চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট: এ স্টাডি অব পলিটিক্স এন্ড মিলিটারি ইন্টারভেনসন্স ইন বাংলাদেশ' বইয়ে জিয়াউর রহমানকে কর্নেল তাহেরের খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ করে একদল নেতাকর্মী। এর আগে মওদুদের ছবি সম্বলিত কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা করেন তারা। কোট-টাই পরানো কুশপুত্তলিকাটির মাথার কাছে মওদুদের আলোকচিত্র এবং বুকে ‘জিয়াকে খুনি হিসেবে সাক্ষী দানকারী দালাল মওদুদের বিচার চাই’ লেখা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়।

২০১১ সালে ১৫ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, "জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের অবস্থান জিয়াউররহমানের চেয়ে অনেক উপরে। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার চেয়ে বঙ্গবন্ধুরজনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তার (বঙ্গবন্ধুর) সাথে জিয়ার তুলনা মানায় না। যার যাঅবদান তা স্বীকার করা উচিত। সবাইকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক না।"

মওদুদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সে সময় আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। রাজপথে একই ভাবে নেতাকর্মীরা মওদুদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। এ সময় আত্মরক্ষার তাগিদে দেশের বাইরেও যান তিনি। কিছুদিন পর দেশে ফিরে আসলে বিষয়টি বেমালুন ভুলে যায় নেতাকর্মীরা। শোনা যায় দলের হাইকমান্ড বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না হউক এ জন্য নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। যার কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে।

গত বুধবার মওদুদ আহমেদ প্রসঙ্গ এবং কর্নেল তাহেরের বিচারের রায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির মূলতবি বৈঠকে । বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি আসতেই মওদুদ আহমেদ তার লেখা 'ডেমোক্রেসি এন্ড দ্যা চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট: এ স্টাডি অব পলিটিক্স এন্ড মিলিটারি ইন্টারভেনসন্স ইন বাংলাদেশ' বইটি থেকে যে উদ্ধৃতি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার এ বিষয়ে মনোভাব দেখে কেউই তেমন মুখ খোলেননি বলে বৈঠক সূত্রে এমনটাই আভাস মিলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নির্বাহী কমিটির এক সদস্য বলেন, দেশের চলমান সঙ্কটের কারণে মওদুদ আহমেদ এ যাত্রা বেঁচে গেলেন।

গত ২০ মে হাইকোর্ট কর্নেল তাহেরের মামলায় মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজের সাক্ষ্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লিখিত বইয়ে সামরিক ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে লেখা বিবেচনায় আনা হয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার 'ডেমোক্রেসি এন্ড চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট : এ স্ট্যাডি অব পলিটিক্যাল এন্ড মিলিটারি ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ' বইয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করেছেন যে, এই বিচারের ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তান ফেরত সামরিক অফিসারদের তুষ্ট করতে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়ার জন্য মনস্থির করেছিলেন। জেনারেল মঞ্জুরের উদ্ধৃতি দিয়ে লরেন্স লিফশুলজও একই বক্তব্য তার সাক্ষ্যে প্রতিধ্বনিত করেন।

আদালত এ প্রসঙ্গে বলেছে, যেহেতু ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জেনারেল জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এবং তিনি জেনারেল জিয়ার মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনেছেন বলে তার বইয়ে দাবি করেছেন সেহেতু তাকে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ দাবি করেছেন, কর্নেল তাহেরের মামলায় হাই কোর্টের রায়ের উদ্বৃতি দিয়ে তার বইয়ের যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তা সঠিক নয়। বুধবার ল রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যরিস্টার মওদুদ এই বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, 'আমার বইয়ের কোথাও বলা হয়নি, যে এ বিচারের ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তান ফেরত সামরিক অফিসারদের তুষ্ট করতে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়ার জন্য মনস্থির করেছিল। আমার বইয়ে বিষয়টি সেভাবে ছিলো না।

তিনি আরো বলেন, “প্রকৃতপক্ষে বইয়ের প্রাসঙ্গিক অংশটি ছিলো নিম্নরূপ, ''কর্নেল তাহেরকে সাজা দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তান প্রত্যাগত অফিসারেরা সব সময় তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। এ ব্যাপারে জিয়া ৪৬ জন সিনিয়র অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। সকলে একবাক্যে তাহেরের জন্য চূড়ান্ত শাস্তির পক্ষে মতামত দেন।' এখানে জিয়া মনস্থির করেছিলেন- এ ধরণের কোন বাক্য আমার বইয়ে নেই।”

মওদুদ বলেন, 'স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কর্নেল আবু তাহেরর আত্মত্যাগ ও সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি সকল প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু তার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে আজ থেকে ৪০ বছর আগে। তখনকার রাজনৈতিক সামাজিক এবং সামরিক প্রেক্ষাপট আজকের চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এ বিচারকার্যকে তখনকার সময়ের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা দরকার।

No comments:

Post a Comment