Wednesday, 19 June 2013

পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের দানের হাত কতটা প্রসারিত......



বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা তাদের এত ধনসম্পদ নিয়ে কী করেন। গরিব দুঃখিদের দান খয়রাত করার ব্যাপারে তাদের হাতটা কতটাই বা প্রসারিত, এ নিয়ে সাধারণের মনে কৌতূহল আছে। আর মিলিওনিয়ার, বিলিওনিয়ারদের নিয়ে কৌতূহল থাকাটাই তো স্বাভাবিক!

বিশ্বের শীর্ষ ধনী বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট-এর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জনকল্যাণমূলক একটি সমিতি, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘‘দ্য গিভিং প্লেজ”। অর্থাৎ দানের অঙ্গীকার। বর্তমানে এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশ্বের ১০৫ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তি, যাদের বিলিওনিয়ার বলা যায়। বেঁচে থাকতে বা মারা যাওয়ার পর নিজেদের মোট সম্পদের কমপক্ষে অর্ধেকটা দান করা হবে, এই অঙ্গীকার করেছেন তারা। অবশ্য এতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

প্রথম দিকে ‘‘দ্য গিভিং প্লেজ” শুধু একটি অ্যামেরিকান ক্লাবই ছিল। পরে অন্যান্য দেশ থেকেও কিছু ধনী ব্যক্তি যুক্ত হন এটির সঙ্গে।

এর মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেন থেকে পাঁচ জন, ইউক্রেন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন করে সদস্য। আর জার্মানি থেকে এই সঙ্ঘে যোগ দিয়েছেন হাসো প্লাটনার।

জার্মানির বিশাল সফটওয়্যার কোম্পানি এসএপি বা স্যাপ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্লাটনার আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ইউরোর মালিক। ২০০৩ সালে এসএপি-র পরিচালনা কমিটি থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। তারপর থেকে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করেছেন প্লাটনরা। নিজস্ব একটি ফাউন্ডেশনও রয়েছে তার। পরে তিনি দ্য গিভিং প্লেজ এ সদস্য হিসাবে যোগ দেন।

অন্যদিকে বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডারও নিজস্ব একটি ফাউন্ডেশন আছে। যেটির আনুমানিক অর্থ মূল্য ২৯ বিলিয়ন ডলার হবে। এই ফাউন্ডেশনের অর্থ দিয়ে আফ্রিকা ও এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশে টিকা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রকল্প পরিচালনা করা হয়।

সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ সেন্টার বার্লিনের ফাউন্ডেশন প্রকল্পের পরিচালক একার্ড পিলার শীর্ষ ধনীদের দয়া দাক্ষিণ্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘দুর্বলদের সঙ্গে সংহতি হলো একটি লক্ষ্য। আর অন্য উদ্দেশ্যটা হলো প্রভাব বিস্তার করা ও নিজের সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা। ”

এ প্রসঙ্গে বিশাল দাতাদের সম্পদের একটা চিত্র দেয়া যাক। বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, ‘‘দ্য গিভিং প্লেজ”-এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের দুজনের মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়নেরও বেশি। আফ্রিকার ২৫টি দেশের সম্মিলিত মোট জাতীয় উৎপাদনের চেয়েও বেশি। অথবা ইউরোপের দেশ স্পেভাকিয়ার জাতীয় উৎপাদনের প্রায় সমান।

জার্মানিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে খুব বেশি অর্থ দান করা হয় না। ২০১১ সালে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো দান করা হয়েছিল। সাধারণত এখানে ষাটোর্ধ ব্যক্তিরাই দান করে থাকেন বেশি জানান জার্মানির ডোনেশন কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডানিয়েলা ফেল্সার।

জার্মানিতে গড়ে ২৯ ইউরো দান করা হয়। ভয়ানক দুর্যোগের বছর যেমন সুনামির পরে প্রতি দুজনে একজন দান করেছেন জার্মানিতে। অন্যান্য বছরে সাধারণত প্রতি তিনজনে একজন দান করে থাকেন এখানে। দানের দিক দিয়ে জার্মানি ইউরোপের মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলি, লুক্সেমবুর্গ, নেদারল্যান্ডস-এর মানুষদের দান করার প্রবণতা জার্মানদের চেয়ে অনেক বেশি।

দান করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও ঐতিহ্য রয়েছে। ওয়ারেন বাফেট অ্যামেরিকানদের প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু সমাজ।”

তবে একার্ড প্রিলার মনে করেন জার্মানির সঙ্গে অ্যামেরিকার তুলনা করা যায় না। জার্মানিতে গির্জার জন্য কর দিতে হয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দানের একটা বড় অংশই দেয়া হয় গির্জায়।

মোটা অঙ্কের অর্থ দান করার ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকিও রয়েছে, জানান প্রিলার। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ক্ষেত্রে অনেক সময় দাতারাই গবেষণার দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

এছাড়া রাষ্ট্রও কোনো কোনো জায়গায় হাত গুটিয়ে নেয়। অর্থাৎ সম্ভব হলে আর্থিক দায়িত্বটা দাতাদের ওপরই ছেড়ে দেয়। শীর্ষ ধনীদের মধ্যে অনেকে আবার দানের চেয়ে উচ্চ কর দেয়ার পক্ষপাতী। এতে করে সম্পদের একটা সুষ্ঠু বণ্টন হবে বলে মনে করেন তারা। 

(সূত্র: ডিডব্লিউ)

No comments:

Post a Comment