Showing posts with label Politic. Show all posts
Showing posts with label Politic. Show all posts

Tuesday, 18 June 2013

মনোনয়ন পাবেন না শতাধিক এমপি-মন্ত্রী



এমপিদের ওপর চটেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শতাধিক এমপি দলীয় মনোনয়ন হারাবেন। চার সিটি করপোরেশনে বড় পরাজয়ের পর দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠদের এমনটিই জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ৪ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নেত্রী খুব চিন্তিত। সোমবার তিনি বলেছেন, বেশিরভাগ আসনেই নতুন করে ভাবতে হবে আমাদের।

ওই সূত্র জানায়, ৪ সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা অন্যদের চেয়ে অনেক ক্লিন ইমেজের ছিলেন। তারপরও নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি ভাবিয়ে তুলেছে শেখ হাসিনাকে। ভালো প্রার্থীদের যদি এই দশা হয় তাহলে অসৎ এমপি-মন্ত্রী, যারা এলাকায় যান না, দলের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের সুবিধা দিয়ে এসেছেন এতোদিন তাদের পরিণতি নিয়ে চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, ২০০৮ এ আওয়ামী লীগের জোয়ারে প্রথমবার যারা এমপি-মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই সামনে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দলটির উদ্যোগে এমপিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জরিপ শুরু হয়েছে সারাদেশে।
সূত্র : প্রাইমখবর

Monday, 10 June 2013

রাজপথে পুড়ছেন মওদুদ

:: পরিবর্তন প্রতিবেদক :: 
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে রক্ষা পেলেও মওদুদ আহমেদকে ছাড়ছেন না দলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুর ১ টার দিকে মওদুদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তারা নয়াপল্টনের স্কাউট মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটায়।

২০ মে কর্নেল আবু তাহেরের (বীর উত্তমের) বিচার নিয়ে হাইকোর্ট রায় দেয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ওই বিচারের রায়ে মওদুদ আহমেদের বইয়ের রেফারেন্স টানা হয়েছে।

মওদুদ আহমদের 'ডেমোক্রেসি এন্ড দ্যা চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট: এ স্টাডি অব পলিটিক্স এন্ড মিলিটারি ইন্টারভেনসন্স ইন বাংলাদেশ' বইয়ে জিয়াউর রহমানকে কর্নেল তাহেরের খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ করে একদল নেতাকর্মী। এর আগে মওদুদের ছবি সম্বলিত কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা করেন তারা। কোট-টাই পরানো কুশপুত্তলিকাটির মাথার কাছে মওদুদের আলোকচিত্র এবং বুকে ‘জিয়াকে খুনি হিসেবে সাক্ষী দানকারী দালাল মওদুদের বিচার চাই’ লেখা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়।

২০১১ সালে ১৫ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, "জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের অবস্থান জিয়াউররহমানের চেয়ে অনেক উপরে। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার চেয়ে বঙ্গবন্ধুরজনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তার (বঙ্গবন্ধুর) সাথে জিয়ার তুলনা মানায় না। যার যাঅবদান তা স্বীকার করা উচিত। সবাইকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক না।"

মওদুদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সে সময় আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। রাজপথে একই ভাবে নেতাকর্মীরা মওদুদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। এ সময় আত্মরক্ষার তাগিদে দেশের বাইরেও যান তিনি। কিছুদিন পর দেশে ফিরে আসলে বিষয়টি বেমালুন ভুলে যায় নেতাকর্মীরা। শোনা যায় দলের হাইকমান্ড বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না হউক এ জন্য নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। যার কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে।

গত বুধবার মওদুদ আহমেদ প্রসঙ্গ এবং কর্নেল তাহেরের বিচারের রায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির মূলতবি বৈঠকে । বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি আসতেই মওদুদ আহমেদ তার লেখা 'ডেমোক্রেসি এন্ড দ্যা চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট: এ স্টাডি অব পলিটিক্স এন্ড মিলিটারি ইন্টারভেনসন্স ইন বাংলাদেশ' বইটি থেকে যে উদ্ধৃতি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার এ বিষয়ে মনোভাব দেখে কেউই তেমন মুখ খোলেননি বলে বৈঠক সূত্রে এমনটাই আভাস মিলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নির্বাহী কমিটির এক সদস্য বলেন, দেশের চলমান সঙ্কটের কারণে মওদুদ আহমেদ এ যাত্রা বেঁচে গেলেন।

গত ২০ মে হাইকোর্ট কর্নেল তাহেরের মামলায় মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজের সাক্ষ্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লিখিত বইয়ে সামরিক ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে লেখা বিবেচনায় আনা হয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার 'ডেমোক্রেসি এন্ড চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট : এ স্ট্যাডি অব পলিটিক্যাল এন্ড মিলিটারি ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ' বইয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করেছেন যে, এই বিচারের ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তান ফেরত সামরিক অফিসারদের তুষ্ট করতে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়ার জন্য মনস্থির করেছিলেন। জেনারেল মঞ্জুরের উদ্ধৃতি দিয়ে লরেন্স লিফশুলজও একই বক্তব্য তার সাক্ষ্যে প্রতিধ্বনিত করেন।

আদালত এ প্রসঙ্গে বলেছে, যেহেতু ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জেনারেল জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এবং তিনি জেনারেল জিয়ার মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনেছেন বলে তার বইয়ে দাবি করেছেন সেহেতু তাকে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ দাবি করেছেন, কর্নেল তাহেরের মামলায় হাই কোর্টের রায়ের উদ্বৃতি দিয়ে তার বইয়ের যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তা সঠিক নয়। বুধবার ল রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যরিস্টার মওদুদ এই বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, 'আমার বইয়ের কোথাও বলা হয়নি, যে এ বিচারের ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তান ফেরত সামরিক অফিসারদের তুষ্ট করতে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়ার জন্য মনস্থির করেছিল। আমার বইয়ে বিষয়টি সেভাবে ছিলো না।

তিনি আরো বলেন, “প্রকৃতপক্ষে বইয়ের প্রাসঙ্গিক অংশটি ছিলো নিম্নরূপ, ''কর্নেল তাহেরকে সাজা দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তান প্রত্যাগত অফিসারেরা সব সময় তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। এ ব্যাপারে জিয়া ৪৬ জন সিনিয়র অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। সকলে একবাক্যে তাহেরের জন্য চূড়ান্ত শাস্তির পক্ষে মতামত দেন।' এখানে জিয়া মনস্থির করেছিলেন- এ ধরণের কোন বাক্য আমার বইয়ে নেই।”

মওদুদ বলেন, 'স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কর্নেল আবু তাহেরর আত্মত্যাগ ও সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি সকল প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু তার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে আজ থেকে ৪০ বছর আগে। তখনকার রাজনৈতিক সামাজিক এবং সামরিক প্রেক্ষাপট আজকের চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এ বিচারকার্যকে তখনকার সময়ের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা দরকার।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহার-২০০৮

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহার-২০০৮
দিনবদলের সনদ

পটভূমি
মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ এক যুগসন্ধিক্ষণে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন প্রিয় স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতার মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরবের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস- দেশ পুনর্গঠনের দুরূহ কর্তব্য সম্পাদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উনড়বত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সূচনা হয়। কিন’ ১৯৭৫ সালের ১৫
আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ আবার সামরিক শাসন ও স্বৈরতন্ত্রের ধারায় ফিরে যায়। একই খুনিরা ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করে চার জাতীয় নেতাকে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার অঙ্গীকার ও একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শোষণমুক্ত সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার সকল সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেয় সামরিক সরকার ও সামরিক ছাউনিতে তাদের সৃষ্ট দলসমূহ। সংবিধান কর্তন, স্বাধীনতা-বিরোধী যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী জামাতে ইসলামি প্রভৃতি সামপ্রদায়িক শক্তিকে পুনর্বাসিত করা, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, সন্ত্রাস, কালোটাকা ও পেশীশক্তির পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি গড়ে তোলা হয় লুটপাটের অর্থনীতি। কিন্তু দেশবাসী তা’ মেনে নেয়নি। জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও অগণিত শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য (১৯৯৬-২০০১)
১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরে সৃষ্টি হয়েছিল সাফল্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মাত্র পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করে। দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়- ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল থাকে। মূল্যস্ফীতির হার ১.৫৯ শতাংশে নেমে আসে। পক্ষান্তরে প্রবৃদ্ধির হার ৬.২ শতাংশে উনড়বীত হয়। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শানি-চুক্তি, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা অর্জন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ, ডি-৮ ও বিমসটেক প্রভৃতি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম গঠন এবং এসোসিয়েশন ফর এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ফর পিস (এএপিপি) গঠন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করে। দারিদ্র্য বিমোচনে নানারকম উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণের ফলে দারিদ্র্য হ্রাসের বার্ষিক গড় হার ০.৫০ শতাংশ থেকে ১.৫০ শতাংশে উন্নীত হয় এবং মানব দারিদ্র্য সূচক ৪১.৬ থেকে ৩২ শতাংশে নেমে আসে। মানব উন্নয়ন সূচকে জাতিসংঘের ৫৬ পয়েন্ট অর্জন, সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশে উন্নীতকরণ, শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশনজট দূরীকরণ ছিল জাতির অগ্রগতির পরিচায়ক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অর্জিত হয় বিস্ময়কর সাফল্য। মাত্র পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও আহরণের ব্যবস্থা, যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন, ৬২ হাজার কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা এবং ১৯ হাজার সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রভৃতির মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য ভৌত অবকাঠামোর ভিত্তি রচিত হয়। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় পাঁচ বছরে জাতীয় আয়ের ১৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে এবং বিনিয়োগের হার ২০ শতাংশ থেকে ২৩.১ শতাংশে উন্নীত হয়। আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরে দেশে ছোট-বড় প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়। বেসরকারি উদ্যোগকে সুযোগ দিয়ে লাখ লাখ বেকার মানুষের কর্মসংস্থনের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি উদ্যোগে প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য ১টি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পাশাপাশি চিকিৎসার যন্ত্রপাতির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। মনোপলি ভেঙে দিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মোবাইল মাত্র ২ হাজার টাকায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা, শুল্কহার কমিয়ে কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তিকে সকলের জন্য অবারিত করে দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করে। কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, জেলহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু এবং আইন সংস্কার কমিশন গঠন প্রভৃতির মাধ্যমে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠন করা হয় প্রশাসন সংস্কার কমিশন। নারীর ক্ষমতায়ন অধিকার প্রতিষ্ঠায় গ্রহণ করা করা বহুবিধ পদক্ষেপ। ১৯৯৭ সালে প্রণয়ন করা হয় একটি প্রগতিশীল নারী নীতিমালা। প্রধানমন্ত্রীর প্রশেড়বাত্তর প্রা, স্থায়ী কমিটিতে মন্ত্রীর বদলে সদস্যদের থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগসহ সংসদে সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়নের লক্ষ্যে চারস-র বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়। দেশকে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে পুনরুজ্জীবিত করতে গ্রহণ করা হয় নানামুখী পদক্ষেপ। বস্তুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরের শাসনকালে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই পাঁচ বছর স্বর্ণযুগ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন, সংকটাপনড়ব বাংলাদেশ
কিন’ বিএনপি-জামাত জোটের পাঁচ বছরে দুঃশাসনের ফলে এই সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটে। দেশ পরিণত হয় মৃত্যু উপত্যকায়। সরকারি মদতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়, সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এএমএস কিবরিয়া, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য আহসানউল−াহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম ও মমতাজউদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতা-কর্মী বিএনপি-জামাত জোট ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়। সংখ্যালঘু সমপ্রদায়সহ লাখ লাখ আওয়ামী লীগ সমর্থক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস- হয়। হাজার হাজার নারী ও নারীশিশু হয় ধর্ষণ, গণধষর্ ণের শিকার। শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, নারী-শিশু, ব্যবসায়ী- কেউই ওই ফ্যাসিস্ট বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পায়নি। জনগণের জীবন হয়ে পড়ে নিরাপত্তাহীন। সরকারি মদতে উগ সামপ্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান, গ্রেনেড হামলা, বোমাবাজী এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ পরিণত হয় আন-র্জাতিক সন্ত্রাসবাদের নতুন টার্গেট। পক্ষান-রে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। আইনের শাসন ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশকে চিহ্নিত করা হয় অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে। বিএনপি-জামাত জোটের পাঁচ বছরে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের μয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। জোট সরকার ও হাওয়া ভবনের পৃষ্ঠপোষকতায় খাদ্য সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ আমলের তুলনায় দ্রব্যমূল্য ১০০-২০০ গুণ পর্যন- বৃদ্ধি পায়। মুদ্রাস্ফীতির হার আওয়ামী লীগ আমলে ১.৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। পক্ষান-রে গড় প্রবৃদ্ধির হার ৫.৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৫.১ শতাংশে। পাঁচ বছরে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি বাড়লেও খাদ্য উৎপাদন আওয়ামী লীগ আমলের ২ কোটি ৬৮ লাখ থেকে কমে দাঁড়ায় ২ কোটি ৬১ লাখ টন। দারিদ্র্য হ্রাসের হার কমে আবার ০.৫০ শতাংশে নেমে আসে। দরিদ্র মানুষের সংখ্যার μমবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। গত ৭ বছরে নতুন করে দরিদ্র হয় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। বাড়ে ধন বৈষম্য। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পায়। বিএনপি-জামাত জোট দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, দুর্নীতি-লুটপাট ও দুর্বৃত্তায়নই এই সরকারের নীতি হয়ে দাঁড়ায়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অতি নিকটজনের নেতৃত্বে ১১১ জন গডফাদারের দৌরাত্ম্য হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। ‘হাওয়া ভবন’কে রাষ্ট্রক্ষমতার প্যারালাল কেন্দ্রে পরিণত করা হয় এবং এটি হয় দেশের সমুদয় দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের প্রসূতি কেন্দ্র। বিএনপি-জামাত জোটের মন্ত্রী, সাংসদ, নেতা-কর্মী এবং দলীয় প্রশাসনের অকল্পনীয় দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট, চাঁদাবাজি প্রভৃতির ফলে টিআইবি পরপর পাঁচবার বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস- দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে। সর্বক্ষেত্রে সরকারের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস’াপনার ফলে উনড়বয়ন মুখ থুবড়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট হয়ে ওঠে অসহনীয়। পাঁচ বছরে জোট সরকার ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। একমাত্র বিদ্যুৎ খাতেই ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও অপব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প ও কৃষি উৎপাদনে সৃষ্টি হয় চরম সংকট। বিদ্যুতের দাবি জানাতে গেলে কানসাটে ২০ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়। বস’ত জোট সরকারের শিক্ষা, স্বাস’্য, যোগাযোগ ও নারী উনড়বয়নসহ সকল ক্ষেত্রে স’বিরতা সৃষ্টি হয়। জোট সরকার জনপ্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, রাষ্ট্র ও সরকারের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। শত শত উচ্চপদস’ বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাকে পদচ্যুত, বাধ্যতামূলক অকালীন অবসর প্রদান করার পাশাপাশি দলীয় অনুগত অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোনড়বতি প্রদান ও নিয়োগ দান করে। দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগদানের জন্য কর্মকমিশনের প্রশড়বপত্র ফাঁস নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। দলীয় অনুগত ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন করে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ২ বছর বৃদ্ধি করা হয়। অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিচারপতি নিয়োগ করে সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও মানুষের শেষ ভরসাস’লটিকে ধ্বংস করা হয়। বিএনপি-জামাত জোট সংসদকে অকার্যকর এবং সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে। সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলতে না দেওয়া, স’ায়ী কমিটিগুলোর কর্মকাণ্ডকে স’বির এবং ব্রুট মেজরিটির জোরে গণতন্ত্র চর্চার সকল পথ রুদ্ধ করে দেয়। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাকে চিরস’ায়ী করার উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। সংবিধান ও সুপ্রিমকোর্টের রায় উপেক্ষা করে ১ কোটি ১৩ লাখ ভুয়া ভোটারসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩ শতাধিক দলীয় ক্যাডারকে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগদান করে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও কারচুপিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যার ফলে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল (অক্টোবর ২০০৬-নভেম্বর ২০০৮)
পছন্দের লোকের কাছে ক্ষমতা হস-ান-র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে গিয়ে তীব্র গণপ্রতিরোধের সম্মুখীন হয় বিএনপি-জামাত জোট সরকার। বিদায়ের মুহূর্তে ২০০৬ সালের অক্টোবরে সারাদেশে আওয়ামী লীগের ৭০ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে। বিএনপি-জামাত জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য তাদের নীলনকশা বাস-বায়নের লক্ষ্যে সংবিধান লংঘন করে দলীয় রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। ড. ইয়াজউদ্দিনের পুতুল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপি-জামাত জোটের নির্দেশ মানতে গিয়ে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের সকল সম্ভাবনা নস্যাৎ করে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পটপরিবর্তন সংঘটিত হয়। ড. ইয়াজউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অপসারিত হন। সেনাবাহিনীর সমর্থনে ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নতুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা; রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকে। ইতোমধ্যে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার নানা সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা, ভুল-ত্রুটি ও সফলতা নিয়ে প্রায় ২ বছর সময়কাল অতিক্রম করেছে। এই সরকার বিচার বিভাগ পৃ কীকরণ, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুদক প্রভৃতি পুনর্গঠন করেন। সরকারের আরেকটি ইতিবাচক কাজ হলো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন। অত্যন- দক্ষতার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী এ কাজটি সম্পনড়ব করায় প্রশংসা অর্জন করে। সরকার নির্বাচনী আইন এবং প্রক্রিয়ারও উলে−খযোগ্য সংস্কার সাধন করে। আসনড়ব নির্বাচন বাংলাদেশের সামনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সংকটজাল ছিনড়ব করে উনড়বয়নের গতিপথে দেশকে পুনসর্’াপিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতীতের সকল গ্লানি, ব্যর্থতা, সংঘাতময় রাজনীতির ঐতিহ্য পেছনে ফেলে প্রিয়-মাতৃভূমি বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার অঙ্গীকার ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিশাপমুক্ত উনড়বত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত দিনবদলের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করছে।

আমাদের অঙ্গীকার, কর্মসূচি ও ঘোষণা
সংকটের আবর্তে নিমজ্জমান অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করে একটি উনড়বত সমৃদ্ধ সুখী সুন্দর জীবন গড়ে তোলাই হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একমাত্র ব্রত। আগামী ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আর ২০২০ সাল হবে বাংলাদেশের সম্প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আমরা ২০২০-২১ সাল নাগাদ এমন এক বাংলাদেশের স্বপড়ব দেখছি যেখানে সম্ভাব্য উচ্চতম প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম একটি দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি দারিদ্র্যের লজ্জা ঘুচিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবে। একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বমূলক সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে নিশ্চিত হবে সামাজিক ন্যায় বিচার, নারীর অধিকার ও সুযোগের সমতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুশাসন, দূষণমুক্ত পরিবেশ। গড়ে উঠবে এক অসাম্পদ্রায়িক প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র। এই ভিশন ও রূপকল্পের আলোকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করবে উপযুক্ত কৌশলপত্র, যার মূলে থাকবে পরিবর্তন বা দিনবদলের অঙ্গীকার। এই কৌশলপত্রে থাকবে দীর্ঘমেয়াদি পরিপ্রেক্ষিত এবং স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। এই রূপকল্প বিবেচনায় রেখেই প্রণীত হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পরিশিষ্টে রূপকল্পটি সংযোজিত হয়েছে। বিশ্বমন্দা এবং জাতীয় সমস্যাবলীকে বিবেচনায় রেখে উলে−খিত রূপকল্প বা ভিশন ২০২১ সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত নির্বাচনী অঙ্গীকার, কর্মসূচি ও ঘোষণা দেশবাসীর সামনে উপস’াপন করছে। ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই ঘোষিত ১৪ দলের ৩১-দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং ২২ নভেম্বর গৃহীত ২৩-দফা অভিনড়ব ন্যূনতম কর্মসূচির আলোকে এবং বিগত ৭ বছরের অভিজ্ঞতা ও বাস-বতাকে বিবেচনায় রেখে প্রণীত হয়েছে এই কর্মসূচি। বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সংকট বিবেচনায় পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়
১. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং বিশ্বমন্দার মোকাবিলায় সার্বিক অর্থনৈতিক সি’তিশীলতা নিশ্চিত
করা :
১.১ দ্রব্যমূল্য : দ্রব্যমূল্যের দুঃষহ চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে সি’তিশীল রাখার ব্যবস’া করা হবে। দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সময় মতো আমদানির সুবন্দোবস-, বাজার পর্যবেক্ষণসহ বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মজুতদারি ও মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। ‘ভোক্তাদের স্বার্থে ভোগ্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য কমানো হবে ও সি’তিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১.২ বিশ্বমন্দা : বিশ্বমন্দার প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য নীতি প্রয়োজন, পরামর্শ প্রদান, তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান- গ্রহণের জন্য জরুরিভিত্তিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, মুদ্রামান সুরক্ষা ও রফতানি সহায়তা এবং জনশক্তি রফতানি অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে।

২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা : দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যμম বাস-বায়ন করা হবে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স-রের ঘুষ, দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনোপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে। প্রতি দফতরে গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সনদ উপস’াপন করা হবে। সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকভাবে কম্পিউটারায়ন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে।

৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
৩.১ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত সার্বিক জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। তেল, গ্যাস, কয়লা, জলবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও জৈবশক্তি, বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তিসহ জ্বালানির প্রতিটি উৎসের অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস’া গড়ে তোলা হবে। তিন বছর মেয়াদি μ্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় বর্তমানে নির্মাণাধীন ও গৃহীত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দ্রুত বাস-বায়ন, জরুরিভিত্তিতে ১০০-১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন প্রকল্প, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণসহ আওয়ামী লীগ আমলে বেসরকারি খাতে ১০, ২০ ও ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিংয়ের ব্যবস’া করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস- বায়িত করা হবে। আগামী তিন বছরে অর্থাৎ ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটে, ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াটে এবং ২০২১ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উনড়বীত করা হবে।
৩.২ তেল ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও আহরণের কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস’া করা হবে। গ্যাস ও এলপিজি’র সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হবে।
৩.৩ জাতীয় স্বার্থকে সমুনড়বত রেখে কয়লানীতি প্রণয়ন করা হবে। এ যাবৎ প্রাপ্ত কয়লার অর্থনৈতিক ব্যবহার এবং কয়লাভিত্তিক নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৪. দারিদ্র্য ঘুচাও বৈষম্য রুখো : আর্থ-সামাজিক উনড়বয়নের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান কৌশল হবে কৃষি ও পল−ী জীবনে গতিশীলতা। হতদরিদ্রের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিস-ৃত করা হবে। ২০১৩ সালের মধ্যে দারিদ্র্যসীমা ও চরম দারিদ্র্যের হার যথাμমে ২৫ ও ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বর্তমানের ৬.৫ কোটি দরিদ্রের সংখ্যা ২০১৩ সালে হবে ৪.৫ কোটি এবং ২০২১ সালে হবে ২.২ কোটি। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য অন্যান্য পদক্ষেপের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ আশ্রায়ন, গৃহায়ন, আদর্শ গ্রাম, ঘরে ফেরা, বাস- বায়ন করা হবে। বয়স্ক ভাতা, দুস’ মহিলা ভাতা, সুবিধাভোগিদের সংখ্যা কমপক্ষে দ্বিগুণ করা হবে। কর্মসংস’ান ব্যাংকে প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে। বর্তমান দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন পিআরএসপি প্রণয়ন করা হবে।

৫. সুশাসন প্রতিষ্ঠা : ৫.১ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ শক্ত হাতে দমন করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস’া করা হবে।
৫.২ বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর ও জেলখানায় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার সম্পনড়ব করা হবে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সুষ্ঠু তদনে-র মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের ব্যবস’া করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে। মানবাধিকার লংঘন কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।
৫.৩ নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পদ্ধতির চলমান সংস্কার অব্যাহত থাকবে। জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংμান- কতিপয় সুনির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভিনড়বমত প্রকাশের অধিকার দেয়া হবে।
৫.৪ রাজনীতিতে সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার ও সহিষ্ণুতা গড়ে তোলা হবে এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ হবে। একটি সর্বসম্মত আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৫.৫ প্রবাসী বাঙালিদের জাতি গঠনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে। রেমিটেন্সের বিনিয়োগ এবং প্রবাসী মূলধনকে আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসীদের মেধার সদ্ব্যবহারের জন্য পরামর্শক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
৫.৬ দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক গণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ ও পদোনড়বতি নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনিক সংস্কার, তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইগভর্নেন্স চালু করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স’ায়ী বেতন কমিশন গঠন করা হবে।
৫.৭ জনজীবনে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। তাদের বেতন-ভাতা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৫.৮ রংপুর নতুন বিভাগ গঠন করা হবে।
৫.৯ কর্মসংস্থান নীতিমালা : দারিদ্র্য বিমোচন, বেকার সমস্যা সমাধান এবং নাগরিকের জীবনকে অর্থবহ করার উদ্দেশে একটি সার্বিক কর্মসংস’ান নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। যার মূল বিষয় হলো- ক. গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস’ান খ. আত্মকর্মসংস’ানের জন্য ঋণ ও প্রশিক্ষণ গ. শিল্পায়নে বেতনভোগী শ্রমিকের জন্য সুযোগ সৃষ্টি ঘ. বৃহৎ শিল্পের সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সাব-কন্ট্রাক্টিং সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ঙ. প্রবাসে শ্রমিক রফতানির জন্য বিশেষ ব্যবস’া এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ। বর্তমানে ২.৮ কোটি লোক বেকার, ২০১৩ সালে তা কমে হবে ২.৪ কোটি এবং ২০২১ সালে হবে ১.৫ কোটি।

গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কর্মসূচি
৬. স্থানীয় সরকার : ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা হবে। জেলা পরিষদকে শিক্ষা, স্বাস’্য, আইন-শৃঙ্খলা ও সকল প্রকার উনড়বয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস- বায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন সদরকে স’ানীয় উনড়বয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, পরিকল্পিত পল−ী জনপদ এবং উপজেলা সদর ও বর্ধিষ্ণু শিল্পকেন্দ্রগুলোকে শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

৭. কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন
৭.১ আমাদের মূল লক্ষ্য ‘সবার জন্য খাদ্য’ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস’া গ্রহণ এবং ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা ও কৃষি ঋণের আওতা বৃদ্ধি এবং প্রাপ্তি সহজীকরণ করা হবে। সেচ সুবিধা সমপ্রসারণ ও সুলভ করা হবে ফসল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস’া নেয়া হবে। ফসল ও সকল কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস’া নিশ্চিত করা হবে। মাছ, দুধ, ডিম, মুরগি, গবাদি পশু ও লবণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে যথাযথ ব্যবস’া নেয়া হবে। দেশীয় চাহিদা পূরণ করে, উদ্বৃত্ত পণ্য রফতানির লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা নেয়া হবে।
৭.২ বর্গাচাষীদের জন্য ঋণ, ক্ষেতমজুরদের কর্মসংস’ান ও তাদের পল−ী রেশনের আওতায় আনা হবে।
৭.৩ বাণিজ্যিক কৃষি, জৈব প্রযুক্তি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্রামীণ অকৃষিজ খাতের উনড়বয়ন, বিশ্বায়ন মোকাবিলায় উপযুক্ত কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
৭.৪ পল−ী উনড়বয়নে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার পরিধি বিস-ৃত করা হবে। ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বিতরণ, খাস জলাশয় ও জলমহাল প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বন্দোবস- দেয়া হবে। সমুদয় জমির রেকর্ড কম্পিউটারায়ন করা হবে এবং জমি, জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে ভূমি সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে।
৭.৫ উপকূলীয় অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে ভূমি উদ্ধারের ব্যবস’া করা হবে।

৮. পরিবেশ ও পানি সম্পদ : বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে রক্ষা, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং পানিসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নদী খনন, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যবস’া করা হবে। সেচ সুবিধা সমপ্রসারণ ও লবণাক্ততা রোধ ও সুন্দরবনসহ অববাহিকা অঞ্চলের মিঠা পানি প্রাপ্তি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস-বায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষায় কার্যকর আঞ্চলিক ও আন-র্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে। পানি ও বায়ু দূষণ রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস’াপনায় আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস’াপনা গড়ে তোলা হবে। ভূ-উপরিসি’ত পানির যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

৯. শিল্প বাণিজ্য :
৯.১ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস’ানের জন্য দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে ব্যবস’াপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, পুঁজি বাজারের দ্রুত বিকাশ, আইন-শৃঙ্খলা, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক পোষকতামুক্ত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস’া, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, উদ্যোক্তা শ্রেণীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম এবং অভ্যন-রীণ বাজার সমপ্রসারণ প্রভৃতি নীতিমালা সংবলিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস-বায়ন করা হবে।
৯.২ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাঙালিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। বিনিয়োগকারীদের জন্য আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি জটিলতা সহজিকরণ করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর করা হবে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার ব্যবস’া করা হবে।
৯.৩ আইটি শিল্পের উনড়বয়ন, পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে সমপ্রসারণ, বিপদমুক্ত ও শক্তিশালী করা, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, খাদ্য প্রμিয়াজাতকরণ, ওষুধ, চামড়া, রাসায়নিক দ্রব্য, খেলনা, জুয়েলারি ও আসবাবপত্র শিল্পের বিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাটের বিকল্প ব্যবহার ও পাট শিল্পকে লাভজনক করতে নেয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ।
৯.৪ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা দান, তাঁত শিল্প রক্ষা ও রেশম, বেনারসি ও জামদানি পল−ী গড়ে তোলাসহ তাঁতী, কামার, কুমার ও মৃৎ শিল্পীদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আখ চাষ ও চিনি শিল্পসহ কৃষিনির্ভর শিল্পকে উৎসাহিত করা, বাজার সৃষ্টি ও রফতানিতে সর্বতোভাবে সহযোগিতা দেয়া হবে। পর্যটন খাতে বিকাশ, জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের উৎপাদনশীল বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

মানব উন্নয়ন
১০. শিক্ষা ও বিজ্ঞান
১০.১ মানব উনড়বয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে যুগোপযোগী নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। ২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স-রে নিট ভর্তি ১০০ শতাংশে উনড়বীত করা এবং ২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করা হবে। শিক্ষার মানোনড়বয়ন, শিক্ষাঙ্গনকে দলীয়করণমুক্ত, শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর বেতন কাঠামো ও স’ায়ী বেতন কমিশন গঠন এবং স্বতন্ত্র কর্মকমিশন গঠন করা হবে। পর্যায়μমে স্নাতক পর্যন- শিক্ষাকে অবৈতনিক সেবায় পরিণত করা হবে।
১০.২ নারীশিক্ষা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে উপবৃত্তি অব্যাহত রাখা হবে।
১০.৩ শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাস, সেশনজট মুক্ত করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে তোলা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে। বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা কর্মের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
১০.৪ রাজধানী ঢাকায় পর্যায়ক্রমে আরো প্রতি থানায় সরকারি মাধ্যমিক হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিটি জেলা সদরে সরকারি স্কুলগুলোর উনড়বয়ন ও সমপ্রসারণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতি উপজেলায় সরকারি মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১০.৫ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : আইসিটি খাতের সম্ভাবনাকে স্বার্থক করে তোলার ব্যবস’া নেওয়া হবে। দেশের প্রতিভাবান তরুণ ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সর্বোতভাবে সহায়তা দিয়ে সফটওয়্যার শিল্প ও আইটি সার্ভিসের বিকাশ সাধন করা হবে। এতে রফতানি বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস’ানের ব্যবস’া হবে। ২০২১ সালের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক স-রে এবং ২০২১ সালে প্রাথমিক স-রে আইটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত এবং জোট সরকারের আমলে নিষিঙঊয় করা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক টাস্কফোর্স সক্রিয় ও কার্যকর করা হবে। দেশের বিভিনড়ব স’ানে হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইসিটি ইনকুবেটর এবং কম্পিউটার ভিলেজ স্থাপন করা হবে।
১০.৬ প্রতিবন্ধী কল্যাণ : ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক প্রণীত প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন যুগোপযোগী ও বাস-বায়িত করা হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস’ান, চলাফেরা, যোগাযোগ সহজ করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ব্যবস’া নেয়া হবে।

১১. স্বাস্থসেবা ও পরিবার কল্যাণ
১১.১ সকলের জন্য স্বাস’্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত জাতীয় স্বাস’্যনীতি পুনর্মূল্যায়ন করে যুগের চাহিদা অনুযায়ী নবায়ন করা হবে। এই নীতির আলোকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, পুষ্টি, শিশু ও মাতৃমঙ্গল নিশ্চিত করা হবে। জনসংখ্যা নীতি যুগোপযোগী করা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস’্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
১১.২ আর্সেনিক সমস্যা সমাধান করে ২০১১ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি এবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রতি বাড়িতে স্বাস’্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস’া করা হবে।
১১.৩ মানসম্পনড়ব ওষুধ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওষুধনীতি যুগোপযোগী করা হবে। হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ূর্বেদসহ দেশজ চিকিৎসা শিক্ষা এবং ভেষজ ওষুধের মানোনড়বয়নে কার্যকর ব্যবস’া নেয়া হবে।
১১.৪ এইচআইভি/এইডস, কুষ্ঠ, যক্ষ্মাসহ সংμামক ব্যাধি প্রতিরোধের ব্যবস’া এবং রোগ নিরাময়ে উনড়বত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
১২. নারীর ক্ষমতায়ন
১২.১ নারীর ক্ষমতায়ন, সম-অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘নারী উনড়বয়ন নীতি’ পুনর্বহাল করা হবে।
১২.২ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উনড়বীত করা হবে। প্রশাসন ও সমাজের সর্বস-রের উচ্চপদে নারীদের নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে।
১২.৩ নারী নির্যাতন বন্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস’া নেয়া হবে। নারী ও শিশু পাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ যথাযথ ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে।
১২.৪ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বৈষম্যমূলক আইনসমূহ সংশোধন করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, কর্মবান্ধব পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

১৩. শিশু-কিশোর কল্যাণ
পর্যায়ক্রমে সর্বক্ষেত্রে শিশুশ্রম বন্ধ করা হবে। শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার, প্রলোভন বা জোর করে জড়িত করা হবে না। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী শিশু অধিকার সংরক্ষণ, ১৯৭৪ সালের শিশু আইন এবং ১৯৯৪ সালের শিশুনীতি পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করা হবে। তাদের শারীরিক, মানসিক বিকাশে পুষ্টি শিক্ষা ও বিনোদনের উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। শিশু নির্যাতন বিশেষ করে কন্যা শিশুদের প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন বন্ধ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পথশিশুদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস’া করা হবে।

১৪. যুব সমাজ ও কর্মসংস্থান
বছরে ন্যূনতম ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের জন্য প্রত্যেক পরিবারের একজন কর্মক্ষম বেকার
তরুণ/তরুণীকে কর্মসংস্থানের জন্য ‘এমপ−য়মেন্ট গ্যারান্টি’ স্কিম পর্যায়ক্রমে কার্যকরী করা হবে। সকল কর্মক্ষম নাগরিকের নিবন্ধন করা হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নতুন প্রজন্মের সমূদয় যুব সমাজকে দুই বছরের জন্য ‘ন্যাশনাল সার্ভিস’-এ নিযুক্ত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

১৫. যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো
১৫.১ পরিবহন, সড়ক নির্মাণ, গৃহায়ন, বন্দর উনড়বয়ন ও নির্মাণে উপযুক্ত নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকল্প বাস-বায়ন করা হবে। সড়ক নেটওয়ার্কে গ্রাম-ইউনিয়ন-উপজেলা ও জেলা সদরকে সংযুক্ত করার কার্যক্রম সম্পনড়ব করা হবে।
১৫.২ পদ্মা ও কর্ণফুলী সেতু, টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪ লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণে যথোপযুক্ত ব্যবস’া গ্রহণ এবং রেলপথ সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে।
১৫.৩ এশীয় রেল ও জনপথের আওতায় পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের সাথে রেল ও সড়ক যোগাযোগ স’াপন করা হবে।
১৫.৪ প্রতিটি ছোট-বড় নদী খনন করা হবে এবং তা যেন সারা বছর নাব্য থাকে তার ব্যবস’া নেওয়া হবে। নিরাপদে স্বল্প খরচে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্য নৌপথের উনড়বয়ন ও নৌ পরিবহনের আধুনিকায়ন করা হবে।
১৫.৫ গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করে এশিয়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। স’লবন্দর আধুনিকায়ন করা হবে।
১৫.৬ বাংলাদেশ বিমানকে বাণিজ্যিকভিত্তিতে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। বেসরকারি বিমান পরিবহনকে আরো উৎসাহিত করা হবে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংযোগস’ল হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস’া উনড়বত করার লক্ষ্যে সর্বাধুনিক আন-র্জাতিক মানসম্পনড়ব নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে।
১৫.৭ টেলিযোগাযোগ ব্যবস’াকে প্রত্যন- গ্রামাঞ্চল পর্যন- সমপ্রসারিত করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব উপজেলাকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা হবে।
১৫.৮ স্বল্প খরচে যাতায়াত ও রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়েকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং এজন্য নতুন রেললাইন স’াপন করা হবে। রাজধানী ঢাকার জনপরিবহন সমস্যার সমাধান ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ভূগর্ভস’ রেললাইন নির্মাণ, আকাশ রেল অথবা সার্কুলার রেলপথ এবং রাজধানীকে ঘিরে নাব্য ও প্রশস- নৌপথ নির্মাণ করা হবে।

১৬. শ্রমনীতি
১৬.১ জাতীয় শ্রমনীতি পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধন করা হবে। পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং স’ায়ী মজুরি কমিশন গঠন করা হবে। দক্ষ শ্রমশক্তি রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন-র্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় ট্রেডভিত্তিক ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস’া করা হবে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১৬.২ গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সকল শ্রমিক, হতদরিদ্র এবং গ্রামীণ ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য বিশেষ বিবেচনায় রেশনিং প্র া চালু করা হবে।

১৭. মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
১৭.১ স্বাধীনতার স্বপড়ব ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস-বায়ন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন-ান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ, বিশেষত দুস’ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি,বার্ধক্যকালীন ভরণ-পোষণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস’াসহ অন্যান্য ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা সন-ানদের চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা ব্যবস’া অব্যাহত থাকবে। সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে রেল, বাস ও লঞ্চে বিনামূল্যে চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে।
১৭.২ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়স-ম্ভ মূল নকশা অনুযায়ী নির্মাণ সম্পনড়ব করা হবে। দেশের সর্বত্র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বিশেষ কার্যক্রমে গ্রহণ করা হবে। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিতকরণ, শহীদদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ এবং স্মৃতিস-ম্ভ নির্মাণ করা হবে।

১৮. ধর্মীয় সংখ্যালঘু, অনুনড়বত সমপ্রদায় ও অনগ্রসর অঞ্চল
১৮.১ ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, আদিবাসী ও চা বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাস, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চির অবসান, তাদের জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম, মানবমযর্দার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের বাস-ব প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। আদিবাসীদের জমি, জলাধার এবং বন এলাকায় সনাতনি অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভূমি কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল প্রকার আইন ও অন্যান্য ব্যবস্থার অবসান করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের জন্য চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
১৮.২ পার্বত্য চট্টগ্রাম শানি-চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস-বায়ন করা হবে। অনগ্রসর অঞ্চলসমূহের উনড়বয়নে বর্ধিত উদ্যোগ, ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী, আদিবাসী ও অন্যান্য সমপ্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি এবং তাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারার স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও তাদের সুষম উনড়বয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস-বায়ন করা হবে। বসি-, চর, হাওড়, বাওড় ও উপকূলসহ সকল অনগ্রসর অঞ্চলের মানুষের জীবনের মান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

১৯. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য-প্রবাহ
১৯.১ সকল প্রকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য-প্রবাহের অবাধ চলাচল সুনিশ্চিত ও সংরক্ষণ করা হবে। জাতীয়ভিত্তিক ছাড়াও স’ানীয়ভিত্তিক কমিউনিটি রেডিও চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।
১৯.২ সকল সাংবাদিক হত্যার দ্রুত বিচার করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান-মূলক শাসি-র ব্যবস্থা এবং সাংবাদিক নির্যাতন, তাদের প্রতি ভয়-ভীতি-হুমকি প্রদর্শন এবং সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
১৯.৩ সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন বিতরণে বৈষম্যমূলক নীতি, দলীয়করণ বন্ধ এবং সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে তার বিকাশে সহায়তা প্রদান করা হবে।

২০. প্রতিরক্ষা
২০.১ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে একটি দেশপ্রেমিক, সাহসী, দক্ষ ও অজেয় প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলবে। দেশের ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস’া উনড়বত করা হবে। একটি ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি’ প্রণয়ন করা হবে।
২০.২ প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়োগ, পদায়ন, পদোনড়বতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন-রীণ শৃঙ্খলা, প্রশাসন ও ব্যবস’াপনায় সংবিধানসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় স্বশাসনের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
২০.৩ আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জাতিসংঘ শানি-রক্ষী বাহিনীসহ আন-র্জাতিক শানি- রক্ষায় অধিকতর অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২১. সংস্কৃতি ও ক্রীড়া
২১.১ বাঙালি সংস্কৃতির অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্পকলা, নাটক, চলচ্চিত্র এবং সৃজনশীল প্রকাশনাসহ সুকুমার শিল্পের সকল শাখার উৎকর্ষ সাধনে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে। পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের (১৯৯৬-২০০১) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘আন-র্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট’ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
২১.২ সামপ্রদায়িকতা, গোঁড়ামি, কূপমণ্ডুকতা, কুসংস্কার এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের পাশাপাশি এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও জনগণকে বিজ্ঞানমনষ্ক এবং উদার মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
২১.৩ কোরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি’ কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। সকল ধর্মের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
২১.৪ ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করা হবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন আন- র্জাতিক মান অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনার উনড়বয়ন, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার সমপ্রসারণসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে। শিশু, কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ বিকাশে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থাকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের অংশ করা হবে।

২২. সরকার ও এনজিও
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ আইনি কাঠামোর মধ্যে স্বশাসিতভাবে তাদের নিজস্ব বিধি মোতাবেক পরিচালিত হবে। তবে বিধিবদ্ধ এনজিও প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের রাজনৈতিক প্রμিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

২৩. পররাষ্ট্র নীতি
ক. বিশ্বশানি- রক্ষায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতির আলোকে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা হবে। ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রেখে বহুমুখী সহযোগিতা জোরদার করা হবে। সার্ক বিমসটেক ও ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোসহ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা হবে।
খ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উনড়বত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উনড়বয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হবে। রাশিয়া, চীন এবং আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা হবে। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান- মহাসাগর এলাকার সঙ্গে অধিকতর যোগাযোগ ও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হবে।
গ. সৌদি আরব, মিশর, প্যালেস্টাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ এবং তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক এবং উনড়বয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্র জোরদার করা হবে। মুসলিম উম্মাহ্র সংহতি এবং ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) কাঠামোয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সহযোগিতা জোরদার করা হবে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পর্ক স্থাপনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘ. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
ঙ. আন-র্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং উজ্জ্বল করা হবে।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা জানেন বিগত শাসক গোষ্ঠীর কৃতকর্মের জন্য প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত। দেশবাসী আর অতীতের বিএনপি-জামাত জোটের সেই দুঃশাসনের রাজত্বে ফিরে যেতে চায় না। দেশবাসী চায় সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কলুষতামুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক সুন্দর সমাজ ও উনড়বয়নের পথে দ্রুত অগ্রসরমান আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাই নিছক ক্ষমতার রদবদলের জন্য নয়, দেশকে ভয়াবহ সংকট থেকে উদ্ধার করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উনড়বয়ন, গণতন্ত্র, শানি- ও প্রগতির পথে অগ্রসর করে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এজন্য আমরা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বা রূপকল্প, আগামী পাঁচ বছরে বাস-বায়নযোগ্য কর্মসূচি এবং আশু ও জরুরি করণীয়সমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে হাজির করেছি। আমরা মনে করি, ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী ও দলমত নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীর সুদৃঢ় ঐক্য এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই উপরোক্ত কর্মসূচি ও অঙ্গীকারসমূহ বাস-বায়ন করা সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন- দেশ পরিচালনায় যে অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, আগামী দিনে সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরো দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশকে সামনের দিকে অগ্রসর করে নিতে সক্ষম হবে ইনশাআল−াহ। নতুন প্রজন্মের যে তরুণ-তরুণীরা এবার প্র ম ভোটার হয়েছেন তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রণীত ভিশন-২০২১ আমরা তাদেরই উৎসর্গ করছি। বিশ্বায়নের এ যুগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য অপার সম্ভাবনাময় নতুন প্রজন্মের ভোটার তথা তরুণ-তরুণীদের শ্রম, মেধা, জ্ঞান ও মননকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। তাদের জন্যই রচিত হয়েছে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও কর্মসূচি। আমরা মনে করি, এ কর্মসূচি ও ভিশন-২০২১ বাস-বায়নে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সম্পৃক্ততার ওপরই এর সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করছে। সমগ্র জাতির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ইশতেহার বাস-বায়ন করে আমরা নতুন প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সফল ভবিষ্যৎ উপহার দেব। নতুন প্রজন্মকে তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও জাতি গঠনের এই মহৎ কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার জন্য আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের বর্তমান তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করছি। প্রিয় দেশবাসী আপনাদের মূল্যবান ভোটে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে আমরা আপনাদের জীবনে স্বস্তিও আস্থা ফিরিয়ে আনবো। দেশবাসীর কাছে আমাদের আহ্বান, আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে আবার আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠি, দিনবদলের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হই। শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য ও দুঃশাসনের চির অবসান ঘটাই। একটি অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও সহিষ্ণু সমাজ গড়ে তুলি। সুখী সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলা গড়ে তোলার সংগ্রামে নবজাগরণ সৃষ্টি করি। গড়ে তুলি বাঙালি জাতির আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। জনতার জয় সুনিশ্চিত। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

পরিশিষ্ট
সংকটমোচন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১)
২০২১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই
১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ
* একটি নির্ভরযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা, নিয়মিত নির্বাচন, সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হবে। সংসদকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
২. রাজনৈতিক কাঠামো, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণঅংশায়ন
* স্থানীয় সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন সাধন করা হবে। উনড়বয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে স্থানীয় সরকার। এ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারকে স্বনির্ভর ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
৩. সুশাসনের জন্য আইনের শাসন ও দলীয়করণ প্রতিরোধ
আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণ করা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে দলীয়করণ মুক্ত করা হবে। নিয়োগ ও পদোনড়বতির ভিত্তি হবে মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে প্রশাসনকে ব্যবহার বন্ধ নিশ্চিত করা হবে।
৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন
সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, স্বচ্ছ অর্থায়ন, শিষ্টাচার ও সহনশীল আচরণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন-রে গণতন্ত্র চর্চা ও অধিকতর সংস্কারের লক্ষ্যে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৫. দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন
স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতিদমন কমিশনসহ দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরো কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। নাগরিক অধিকার সনদ রচনা, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি দলিল দস-াবেজ কম্পিউটারায়ন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতির পথগুলো সম্ভাব্য সকল উপায়ে বন্ধ করা হবে।
৬. নারীর ক্ষমতায়ন ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা
রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে নারীর সমান অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের নারীনীতি পুনর্বহাল ও কার্যকর করা হবে, বৈষম্যমূলক আইনসমূহের সংস্কার করা হবে এবং সংসদে প্রত্যক্ষ ভোটে নারীর জন্য ১০০ আসন সংরক্ষিত করা হবে।
৭. অর্থনৈতিক উনড়বয়ন ও উদ্যোগ
ক. মৌলিক চাহিদা পূরণ : সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য অনড়ব, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় আয়ের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ২০১৩ সালে ৮ শতাংশে এবং ২০১৭ সালে ১০ শতাংশে উনড়বীত করে ২০২১ সাল পর্যন- অব্যাহত রাখা হবে।
খ. জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তির অভিক্ষেপ : ২০২১ সালে জনসংখ্যা হবে ১৬.৫ কোটি। শ্রমশক্তি হবে ১০.৫ কোটি। ২০২১ সালের মধ্যে শ্রমশক্তির অন-ত ৮৫ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে ৪.৫ কোটি কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২০১৩ সালে হবে ৫.৬ কোটি এবং ২০২১ সালে হবে ৯ কোটি। শিল্পের বিকাশ, কৃষির শ্রমঘন বৈচিত্র্য সাধন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রফতানি প্রসার ও জনশক্তি বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানের নানা উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
গ. দারিদ্র্য নির্মূল : আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র্য হ্রাস নয় দারিদ্র্য নির্মূল। এ জন্য ২০১৫ সালে না হোক ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে যথোপযুক্ত পিআরএসপি প্রণয়ন করা হবে। ২০২১ সাল নাগাদ বর্তমান দারিদ্র্যের হার ক্রমান্বয়ে ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। ২০১৩ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠী হবে বর্তমানের ৬.৫ কোটির স’লে ৪.৫ কোটি এবং ২০২১ সালে হবে ২.৫ কোটি। দারিদ্র্য নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অতি দরিদ্রদের জন্য গড়ে তোলা হবে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী।
ঘ. খাদ্য ও পুষ্টি : বর্তমান খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে ২০১৩ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করা হবে।
ঙ. স্বাস্থ্যসেবা : ২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দৈনিক ন্যূনতম ২১২২ কিলো ক্যালোরির ঊর্ধ্বে খাদ্য, সংক্রামক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল, সকলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ২০১৩ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, ২০২১ সালের মধ্যে গড় আয়ুষ্কাল ৭০-এর কোঠায় উন্নীত, শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার কমানো প্রভৃতি নিশ্চিত করা হবে।
চ. শিক্ষা : ২০১১ সালের মধ্যে প্রাথমিক স-রে নিট ভর্তির হার ১০০ শতাংশ, ২০১৭ সালে নিরক্ষরতা সম্পূর্ণ দূর, শিক্ষার মানোনড়বয়ন, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরী জ্ঞানসম্পনড়ব প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রণয়ন করা হবে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি।
ছ. শিল্প : ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পায়নের সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করা হবে। জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান দ্বিগুণ উনড়বীত করা, কৃষি ও শ্রমঘন শিল্পের উৎপাদনশীল বিকাশকে অগ্রাধিকার প্রদান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সর্বোত্তম বিকাশ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা সংবলিত উনড়বয়ন কৌশল গহ্র ণ ও বাস-বায়ন করা হবে।
জ. জ্বালানি নিরাপত্তা : প্রত্যাশিত উনড়বয়ন ও শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে জ্বালানি নিরাপত্তার দিক-নির্দেশনা সংবলিত জ্বালানিনীতি গ্রহণ করা হবে। ২০১৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৮ হাজার মেগাওয়াটে উনড়বীত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদা হবে ২০ হাজার মেগাওয়াট। গ্যাসসম্পদের নিয়মিত জরিপ করে অধিকতর গ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানির চাহিদা পূরণে অভ্যন-রীণ বায়োগ্যাস, জলবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, সৌরশক্তিসহ সম্ভাব্য সকল উৎস ছাড়াও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঝ. ভৌত অবকাঠামো : সড়ক, রেল, নৌ, বিমান পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস’াকে ব্যাপকভাবে সমপ্রসারিত করা হবে। রাজধানীর সঙ্গে সমগ্র দেশের স্বল্প খরচে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলপথকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলীতে ঝুলন- সেতু/টানেল নির্মাণ, বাংলাদেশকে এশীয় হাইওয়ে ও এশীয় রেলওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা, বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও তা’ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা প্রভৃতি কার্যক্রম বাস-বায়ন করা হবে। ঢাকায় পাতাল রেল/মনোরেল, সার্কুলার রেলপথ এবং এলিভেটেড (দোতলা) রাস্তা নির্মাণ করে গণপরিবহন সমস্যার সমাধান ও যানজটমুক্ত করা হবে। ঢাকার চতুর্দিকে বৃত্তাকার (অরবিটাল) জলপথ, বেড়িবাঁধ, সড়ক, রেলপথ নির্মাণ করা হবে। জলপথটি নিয়মিত ড্রেজিং করে নাব্য রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঞ. আবাসন : ২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় ‘গ্রোথ সেন্টার’ কেন্দ্রিক পল্লী নিবাস ও শহরাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।
ত. পরিবেশ : আবহাওয়া পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে উদ্ভূত বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিকল্পিতভাবে বায়ু দূষণ প্রশমন, শিল্প ও যানবাহনজনিত পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। বনভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ এবং নদী ভাঙন রোধসহ বিভিনড়ব পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশকে নিরাপদ ভূখণ্ডে পরিণত করা হবে।
থ. পানিসম্পদ : ভবিষ্যতে পানিসম্পদ সংরক্ষণ, বাংলাদেশের প্রাপ্যতা, হিস্যা ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ একটি সমন্বিত পানিনীতি প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করবে।
৮. বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ
ক. স্বাধীনতা অর্জন : মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও স্বাধীনতার অর্জনসমূহের সুরক্ষা এবং প্রতিটি নবীন প্রজন্মের মানস গঠনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গৌরববোধ সঞ্চারিত, স্বদেশানুরাগ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দেশ গঠনে ও দেশ পরিচালনায় তরুণদের অংশগ্রহণ, তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হবে।
খ. সংস্কৃতি : বাঙালি সংস্কৃতির অব্যাহত বিকাশকে বাধামুক্ত করা, আবিষিঙঊয়া, উদ্ভাবন, শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত ও ক্রীড়াসহ সুকুমার শিল্পের সৃজনশীল বিকাশ এবং আন-র্জাতিক মান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ব সভ্যতায় আমাদের তরুণরা যাতে অবদান রাখতে পারে সে লক্ষ্যে রাষ্ট্র সর্বপ্রকার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
গ. পররাষ্ট্র নীতি : আন-র্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এই মূলনীতি অনুসরণ করা হবে।

রূপকল্প (ভিশন) অনুযায়ী কতিপয় লক্ষ্যমাত্রা
২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে নিট ভর্তির হার হবে ১০০ শতাংশ।
২০১১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হবে।
২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।
২০১৩ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
২০১৩ সালে বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার হবে ৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে এই হার ১০ শতাংশে উন্নীত করে অব্যাহত রাখা হবে।
২০১৩ সালে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সরবরাহ হবে ৭ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০১৫ সালে ৮ হাজার মেগাওয়াট। ২০২১ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ২০ হাজার মেগাওয়াট ধরে নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
২০১৩ সালে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
২০১৪ সালে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
২০১৫ সালের মধ্যে সকল মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
২০২১ সালে জাতীয় আয়ের বর্তমান হিস্যা কৃষিতে ২২, শিল্পে ২৮ ও সেবাতে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে হবে যথাক্রমে ১৫, ৪০ এবং ৪৫ শতাংশ।
২০২১ সালে বেকারত্বের হার বর্তমান ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসবে।
২০২১ সালে কৃষি খাতে শ্রমশক্তি ৪৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে।
২০২১ সালে শিল্পে শ্রমশক্তি ১৬ থেকে ২৫ শতাংশে এবং সেবা খাতে ৩৬ থেকে ৪৫ শতাংশে উনড়বীত হবে।
২০২১ সাল নাগাদ বর্তমান দারিদ্র্যের হার ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামবে।
২০২১ সালে তথ্য-প্রযুক্তিতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করবে।
২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮৫ শতাংশ নাগরিকের মানসম্পনড়ব পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত হবে।
২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ২১২২ কিলো ক্যালোরির ঊর্ধ্বে খাদ্য নিশ্চিত করা হবে।
২০২১ সালের মধ্যে সকল প্রকার সংক্রামক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে।
২০২১ সালে গড় আয়ুষ্কাল ৭০-এর কোঠায় উন্নীত করা হবে।
২০২১ সালে শিশুমৃত্যুর হার বর্তমান হাজারে ৫৪ থেকে কমিয়ে ১৫ করা হবে।
২০২১ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ৩.৮ থেকে কমে হবে ১.৫ শতাংশ।
২০২১ সালে প্রজনন নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করা হবে ।


দলীয় সংবিধান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

(৩০শে নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখ পর্যন্ত- সংশোধিত)

১। নাম
এ সংগঠনের নাম হবে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। ইংরেজীতে এ সংগঠনকে ‘Bangladeshi Nationalist Party’ (BNP) এবং সংক্ষেপে এ দলটিকে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ বলে অভিহিত করা হবে। এ দলের জাতীয় কার্যালয় তথা কেন্দ্রীয় সদর দফতর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং দলের সদর দফতর বা কেন্দ্রীয় অফিসের সংগঠন চেয়ারম্যানের দায়িত্বাধীন থাকবে এবং অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদবী, দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতা চেয়ারম্যান নিজে নিরূপণ করবেন।

২। উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য
জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষেপে এ দলের কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিচে বর্ণিত হলোঃ

(ক) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ-ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা।
(খ) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া-উপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।
(গ) উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন।
(ঘ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামে-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা ও বাস্-বায়নের ক্ষমতা ও দক্ষতা জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
(ঙ) এমন এক সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্-রে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়।
(চ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চিতি দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাঁদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারবেন।
(ছ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন।
(জ) গণতান্ত্রিক জীবন ধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসাবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।
(ঝ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোন সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজন্সী গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা।
(ঞ) জাতীয় জীবনে মানবমুখী সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা।
(ট) বাস্-বধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার-ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশী নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায়।
(ঠ) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
(ড) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস্-বভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা।
(ঢ) বাস্-বধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।
(ণ) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসার সাধন।
(ত) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগপ্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিষে করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা।
(থ) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্-র্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা। সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে, তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ় করা।

৩। সংগঠনের পতাকা
এই সংগঠনের পতাকার ঊর্দ্ধার্ধ লাল এবং নিম্বার্ধ সবুজ রঙের হবে। পতাকার মদ্যস্থলে কালো রঙয়ের একটি শিল্পচক্র থাকবে। এই চক্রবৃত্তের বিন্দু থেকে লাল সবুজের সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত হবে এক ছড়া সোনালী ধানের শীষ এবং প্রসারিত হবে উপরের দিকে। ধানের শীষের উপরে থাকবে একটি শ্বেত-বর্ণের তারকা। সবুজ হচ্ছে দশের প্রতীক, লাল হচ্ছে স্বাধীনতার যুদ্ধ ও ত্যাগের প্রতীক, শিল্পচক্র হচ্ছে উন্নতি ও অগ্রগতির প্রতীক, ধানের শীষ হচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পেরপ্রতীক এবং শ্বেত-বর্ণের তারকা হচ্ছে আমাদের জাতীয় আশা-আকাঙক্ষার প্রতীক।

৪। শব্দার্থ
(ক) ‘ওয়ার্ড’, ‘ইউনিয়ন’, ‘থানা’, ‘শহর’/‘পৌরসভা’, ‘নগর’ এই শব্দগুলো বাংলাদেশের সরকার/নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেওয়া অর্থই বোঝাবে।
(খ) ‘গঠনতন্ত্র’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক না হলে দলের গঠনতন্ত্রকেই বোঝাবে।
(গ) যদি গঠনতন্ত্রে অন্যভাবে বোঝানো না হয়ে থাকে তবে ‘জেলা’ বলতে প্রশাসনিক জেলা বোঝাবে।
(ঘ) ‘চেয়ারম্যান’ শব্দটি ক্ষেত্র বিশেষ চেয়ারপার্সনকেও বোঝাবে।
(ঙ) ‘দল’ শব্দটি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’কে বোঝাবে।
(চ) ‘সদস্য’ শব্দটি যদি কমিটির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত না হয়ে থাকে তা হলে দলের প্রাথমিক সদস্যকে বোঝাবে।

৫। সদস্য পদ
(ক) সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা
(১) ১৮ বছর বা ততোধিক বয়সের যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক এ দলের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবে। ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সংগঠনের ঘোষণাপত্রের, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচীর প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করতে হবে।
(২) প্রাথমিক সদস্য পদের আবেদনপত্র এই গঠনতন্ত্রের তপশীল ১-এ ‘ক’ ফরমে করতে হবে। ফরম দলের অফিসে পাওয়া যাবে। সদস্য পদের আবেদনপত্র অন্য কোন ফরমে গ্রহণযোগ্য হবে না, তবে কোন সময় যদি এই ফরম দলের অফিসে না পাওয়া যায় তাহলে অনুরূপ ফরম ছাপিয়ে নিয়ে সদস্য পদের আবেদন করা যেতে পারে।
(৩) বিবেচনার পর আবেদনপত্র গৃহীত হলে সদস্য পদের প্রমাণস্বরূপ পরিচয়পত্র (তপশীল ১) ‘খ’ ফরমে প্রত্যেক সদস্যকে দিতে হবে।
(৪) এ দলের প্রাথমিক সদস্য চাঁদা ২/- টাকা মাত্র। সদস্য পদ লাভের পরবর্তী বছর থেকে দলের বাৎসরিক চাঁদা ১/- (এক) টাকা মাত্র। সদস্যদের চাঁদা রসিদ মারফত গৃহীত হবে এবং রসিদ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।
(৫) প্রত্যেকটি থানা অফিস তাদের স্ব স্ব এলাকায় প্রত্যেক প্রাথমিক সদস্য পদের তালিকা সংরক্ষণ করবেন। জাতীয় সদর অর্থাৎ দলের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় অফিসে দলের সর্বমোট সদস্য সংখ্যা, সদস্যদের নাম ও ঠিকানাসহ বিধিসম্মতভাবে সংরক্ষিত হবে।

(খ) সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতা
(১) বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন এমন কোন ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবে না।
(২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরোধী, গোপন সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি বা সমাজ-বিরোধী ও গণবিরোধী কোন ব্যক্তিকে এই সংগঠনের সদস্য পদ দেয়া হবে না।

(গ) সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্-মূলক ব্যবস্থা
দলের স্থায়ী কমিটি দলের কোন সদস্যের অসদাচরণের কারণে কিংবা শৃঙখলা ভঙ্গের কারণে কিংবা দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কোন কর্মকাণ্ডের কারণে তার সদস্যপদ বাতিল কিংবা সাময়িকবাবে সদস্যপদ স্থগিত কিংবা তার বিরুদ্ধে অন্য যে কোন শাস্-িমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঙ্গতকারণে পূর্বে নেয়া যে কোন শাস্-িমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবে। কোন কারণে স্থায়ী কমিটির সভা আহবান করা সম্ভব না হলে জরুরী প্রয়োজনে দলের চেয়ারম্যান নিজ বিবেচনায় শাস্তি যোগ্য মনে করলে যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ এবং পূর্বে নেয়া যে কোন শাস্-িমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে সকল ক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। চেয়ারম্যান অথবা স্থায়ী কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পূর্বে প্রয়োজনবোধে অভিযুক্ত সদস্যকে ব্যক্তিগত শুনানীর সুযোগ দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে একটি নোটিশ ডাকে

(ঘ) সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ
(১) দলের যে কোন সদস্য দলের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।
(২) দল কর্তৃক মনোনীত কোন সংসদ সদস্য যদি সংসদে দলের সংসদীয় দলের নেতানেত্রীর সম্মতি ছাড়া নিজের নির্দিষ্ট আসন পরিবর্তন করেন বা অন্য দলের সাথে জোট বাঁধেন বা ফ্লোরক্রস করেন বা সংসদের দলীয় অবস্থানের পরিপন্থী কোন কাজ করেন তাহলে উপরোক্ত যে কোন কার্যের কারণে সেই সংসদ সদস্য এই দল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

৬। (ক) সাংগঠনিক নীতিমালা ও কাঠামো
জাতীয়তাবাদী দল দেশের মৌলিক স্তর গ্রাম/ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সংগঠিত হয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্- সম্প্রসারিত হবে।
দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ হবেঃ
(১) গ্রাম কাউন্সিল ও গ্রাম নির্বাহী কমিটি
(২) শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল ও শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি
(৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি
(৪) থানা কাউন্সিল ও থানা নির্বাহী কমিটি
(৫) শহর/পৌরসভা কাউন্সিল ও শহর পৌরসভা নির্বাহী কমিটি
(৬) জেলা কাউন্সিল ও জেলা নির্বাহী কমিটি
(৭) নগর/ওয়ার্ড কাউন্সিল ও নগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি
(৮) নগর থানা কাউন্সিল ও নগর থানা নির্বাহী কমিটি
(৯) নগর কাউন্সিল ও নগর নির্বাহী কমিটি
(১০) জাতীয় কাউন্সিল
(১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটি
(১২) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
(১৩) পার্লামেন্টারী বোর্ড
(১৪) পার্লামেন্টারী পার্টি
(১৫) বিদেশে দলের শাখা।

(খ) সাংগঠনিক কাঠামোর গঠন প্রণালী

(১) গ্রাম কাউন্সিল ও গ্রাম নির্বাহী কমিটি
প্রতি গ্রামে ন্যূনতম ৫০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দফতর সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ২১ জনের অনূধর্ব একটি গ্রাম নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।

(২) শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল ও শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি
প্রতিটি জেলার শহর বা পৌরসভাভূক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ১৫০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, তিনজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৫১ জনের অনূধর্ব একটি শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। এ কমিটি দলের ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে। থানা কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি
ইউনিয়নভূক্ত প্রতিটি গ্রামের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের ইউনিয়ন কাউন্সিল। এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, তিনজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৫১ জনের অনূধর্ব একটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। থানা কমিটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৪) থানা কাউন্সিল ও থানা নির্বাহী কমিটি
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ এই প্রতিটি নগরের অন্-র্ভূক্ত ওয়ার্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দদের নিয়ে সেই নগরে দলের নগর থানা কাউন্সিল গঠিতহবে। এই কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে একজন সভাপতি, পাঁচজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সহকারী দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৭১ জনের অনূধর্ব একটি নগর থানা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। নগর নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৯) নগর কাউন্সিল ও নগর নির্বাহী কমিটি
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ এই প্রতিটি নগরের অন্-র্ভূক্ত প্রতিটি থানা নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে সেই নগরে দলের নগর কাউন্সিল গঠিত হবে। এই কাউন্সিলের দুই বছর মেয়াদে একজন সভাপতি, সাতজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন সহ-দপ্তর সম্পাদক, একজন সহ-প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১০১ জনের অনূধর্ব একটি নগর নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে। দলের নগর নির্বাহী কমিটি দলের জেলা নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে। চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব নগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন।

নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় কাউন্সিলসমূহ স্ব স্ব এলাকায় প্রয়োজনবোধে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের জন্য এক বা একাধিক সম্পাদক নির্বাচিত করতে পারেন, যদিও কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা কোনক্রমেই যার যার এলাকা-কমিটির সীমিত সংখ্যা অতিক্রম করতে পারবে নাঃ

তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক
আইন বিষয়ক
স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক
ছাত্র বিষয়ক
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক
পল্লী উন্নয়ন, সমবায় ও গ্রাম বিষয়ক
খাদ্য ও কৃষি
নিরক্ষরতা দুরীকরণ ও শিক্ষা
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
মহিলা বিষয়ক
যুব সম্প্রদায় বিষয়ক
কৃষক সম্প্রদায় বিষয়ক
শিশু কল্যাণ
প্রচারণা ও প্রকাশনা বিষয়ক
বন ও পরিবেশ বিষয়ক
মৎস্য চাষ বিষয়ক
বৃক্ষ রোপন বিষয়ক
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক
তাঁতী বিষয়ক
বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ

প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, শহর/পৌরসভা, নগর ওয়ার্ড, নগর থানা, জেলা ও নগর নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কমপক্ষে শতকরা দশ ভাগ দলের মহিলা সদস্যদের মধ্য থেকে থাকতে হবে।
দলের নির্বাচিত বিভিন্ন নির্বাহী কমিটিসমূহ স্ব স্ব এলাকায় দলের কর্মসূচী বাস্-বায়ন, তদারক ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

(১০) জাতীয় কাউন্সিল
(ক) ‘জাতীয় কাউন্সিল’ নামে দলের একটি জাতীয় কাউন্সিল থাকবে যার গঠন পদ্ধতি নিম্নরূপ হবেঃ
(১) প্রতি থানা নির্বাহী কমিটির (নগর থানাসহ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(২) প্রতি শহর/পৌরসভার নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(৩) প্রতি জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(৪) প্রতি নগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(৫) প্রতি জেলা ও নগর নির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত প্রতি জেলা ও নগর হতে দুইজন মহিলা সদস্য,
(৬) পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ,
(৭) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ,
(৮) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ,
(৯) চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত উপরে বর্ণিত ১ হতে ৮ এর মোট সদস্য সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ।

(গ) বিষয় কমিটি
দলের চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনবোধে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিষয় কমিটি মনোনীত করতে পারবেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যে সমস্- বিষয়ে এ ধরনের কমিটি গঠিত হতে পারে সেগুলো হচ্ছেঃ জাতীয় পরিকল্পনা ও অর্থ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পল্লী উন্নয়ন, খাদ্য ও কৃষি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা, শ্রম কল্যান, মহিলা, যুব সম্প্রদায়, আন্-র্জাতিক বিষয় ও শিশু কল্যান, এই সমস্- কমিটিসমূহে দলের সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও সুদক্ষ এমন ব্যক্তিদেরকেও কো-অপ্ট করা যাবে, তবে কোন অবস্থাতেই এদের সংখ্যা কমিটির নির্ধারিত মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশী হবে না। কমিটিতে কো-অপ্ট করা সদস্যবৃন্দ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

(১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

অনূধর্ব ২৫১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। তবে দলের চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা বা সদস্যদের সংখ্যা নিরূপণে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্তু মোট সদস্য সংখ্যা ২৫১ জনের ঊধের্ব দশ শতাংশের বেশী বৃদ্ধি করা যাবেনা এবং এই ক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। প্রত্যেক জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও প্রত্যেক নগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি তাঁদের পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্যের শতকরা ১০ ভাগ মহিলা সদস্য হতে হবে এবং এই কমিটিতে মোট সংখ্যা শতকরা ১০ ভাগ সদস্য শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধা কৃষক, উপজাতি ও সমাজের অন্যান্য স্-রের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে নিতে হবে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটি নিম্নলিখিত কর্মকর্তাসহ দলের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবে, তবে এই কমিটির অন্-তঃ এক-তৃতীয়াংশ জাতীয় কাউন্সিল থেকে নিতে হবে।

সভাপতি (চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে) ১
সহ-সভাপতি ১৫
মহাসচিব ১
যুগ্ম মহাসচিব ৭
দফতর সম্পাদক ১
কোষাধ্যক্ষ ১
সাংগঠনিক সম্পাদক ৫
সম্পাদক-বিশেষ দায়িত্বে ১
প্রচার সম্পাদক ২
সম্পাদক-আন্-র্জাতিক বিষয়ক ৪
সম্পাদক-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক ১
সম্পাদক-আইন বিষয়ক ১
সম্পাদক-সমাজ কল্যান বিষয়ক ১
সম্পাদক-ক্রীড়া বিষয়ক ১
সম্পাদক-সাংস্কৃতিক বিষয়ক ১
সম্পাদক-যুব সম্প্রদায় বিষয়ক ১
সম্পাদক-মহিলা বিষয়ক ১
সম্পাদক-ধর্ম বিষয়ক ১
সম্পাদক-ছাত্র বিষয়ক ১
সম্পাদক-শ্রমিক বিষয়ক ১
সম্পাদক-স্বনির্ভর সম্পর্কীয় বিষয়ক ১
সম্পাদক-কৃষি বিষয়ক ১
সম্পাদক-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক ১
সম্পাদক-গণশিক্ষা বিষয়ক ১
সম্পাদক-বন ও পরিবেশ বিষয়ক ১
সম্পাদক-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক ১
সম্পাদক-সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক ১
সম্পাদক-শিল্প বিষয়ক ১
সম্পাদক-ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক ১
সম্পাদক-অর্থনৈতিক বিষয়ক ১
সম্পাদক-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক ১
সম্পাদক-শিক্ষা বিষয়ক ১
সম্পাদক-গ্রাম সরকার বিষয়ক ১
সম্পাদক-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক ৫
সম্পাদক-প্রকাশনা বিষয়ক ১
সম্পাদক-তাঁতী বিষয়ক ১
সম্পাদক-শিশু বিষয়ক ১
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ৫
সহকারী দপ্তর সম্পাদক ১

জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্ব নিম্নরূপ হবেঃ
(ক) দলের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্বের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা।
(খ) প্রয়োজনবোধে দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্-িমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(গ) দলে কর্মসূচী বাস্-বায়ন ও তদুদ্দেশ্যে প্রস্-াব গ্রহণ ও নির্দেশ প্রদান করা।
(ঘ) বৈধতা প্রশ্নে কমিটিসমূহের অন্-র্দ্বন্দ্ব মেটানো।
(ঙ) দলের অঙ্গ সংগঠনসমূহের কার্যকলাপের তদারক, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা।
(চ) জাতীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশে অন্যান্য কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করা।
প্রতি তিন মাসে অন্তঃ একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে তবে প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় এ কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে।

(১২) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি ১৫ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ তাদের পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য বলে গণ্য হবেন।
জাতীয় স্থায়ী কমিটি নিম্নোক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেনঃ
(ক) দলের প্রধান নীতি-নির্ধারক অঙ্গ হিসাবে এ কমিটি দলের নীতি ও কর্মসূচী প্রণয়ন ও প্রবর্তন করবেন।
(খ) একমাত্র চেয়ারম্যান অপসারণ ব্যতীত দলের অন্যান্য সমস্- শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পুনর্বিচারের ক্ষমতা এ কমিটির থাকবে।
(গ) এ কমিটি প্রয়োজনবোধে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, বিধি, উপবিধি ও ধারায় যথাযথ সঙ্গতিপূর্ণ ব্যাখ্যা করবেন এবং সে ব্যাখ্যা চুড়ান্- বলে গণ্য হবে।
(ঘ) দলের সদস্যরা যাতে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, উপধারা, বিধি, উপবিধির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন এবং মেনে চলেন এ কমিটি সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখবেন।
(ঙ) এ কমিটি দলের প্রচারপত্র ও অন্যান্য প্রকাশনার অনুমোদন দান করবেন এবং এ কমিটির অনুমোদন ব্যতীত দলের কোন প্রচারপত্র বা প্রকাশনা প্রকাশ বা বিতরণ করা চলবে না।
(চ) এ কমিটি গ্রাম পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্- যে কোন নির্বাহী কমিটির কাজ সাময়িকভাবে মূলতবী রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন কিংবা প্রয়োজনবোধে তা বাতিল করে দিয়ে পূনঃ নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবেন। পূনঃনির্বাচনের জন্য স্থায়ী কমিটি একজন আহবায়ক বা বিশেষ ক্ষেত্রে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কমিটির পুনঃ গঠন ও পুনঃ নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবেন।
(ছ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয় কমিটিসমূহের আওতাভূক্ত যে কোন বিষয়ের উপর রিপোর্ট পেশ করার জন্য উক্ত কমিটিসমূহকে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(জ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করবেন।

(১৩) পার্লামেন্টারী বোর্ড
জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যে কোন নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য জাতীয় একটি পার্লামেন্টারী বোর্ড থাকবে। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দলের পার্লামেন্টারী বোর্ড। তবে যে জেলার প্রার্থী মনোনয়নের জন্য পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভা আহুত হবে সেই জেলার সভাপতি, প্রথম তিনজন সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত সভার পার্লামেন্টারী বোর্ডের সদস্য বলে গণ্য করা হবে। তবে কোন সদস্য যদি নির্বাচন প্রার্থী হন তার নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী বিবেচনাকালে বোর্ডের সভায় তিনি অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। দলের চেয়ারম্যান হবেন পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভাপতি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিংবা যে কোন নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারী বোর্ড পালন করবেন এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্- চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

(১৪) পার্লামেন্টারী পার্টি
জাতীয় সংসদে দলের সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের পার্লামেন্টারী পার্টি। দলের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে এ পার্টি তার নেতা, উপনেতা, চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের নির্বাচিত করবেন। পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হবেন।

(১৫) বিদেশে দলের শাখা
বাংলাদেশের বাইরে দলের বিভিন্ন শাখা থাকতে পারে। বিদেশী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমগ্র দেশের জন্য যে কমিটি থাকবে সেই কমিটির অনুমোদন দেবেন দলের চেয়ারম্যান এবং অনুমোদিত হওয়ার পর সেই কমিটি দলের জেলা কমিটির মর্যাদা লাভ করবে এবং অনূধর্ব ১০১ সদস্য সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হবে।
এ কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে গণ্য হবে। এ কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দলের জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের বাইরে বিদেশী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নীচে অন্যান্য স্থানীয় কমিটি কিংবা আঞ্চলিক কমিটি কিংবা জোনাল কমিটি থাকতে পারে। এ সমস্- কমিটির সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ৭১ জন হলে এবং সে কাউন্সিলের মাধ্যমে এ কমিটি নির্বাচিত হবে সে কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ১০০ জন হলে, সে কমিটি দলের থানা কমিটির মর্যাদা পাবে এবং কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে গণ্য হবে।
বিদেশে দলের শাখার সাংগঠনিক কাঠামো বা গঠন প্রণালী সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন উঠলে তা দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির মতামতের জন্য প্রেরণ করতে হবে এবং দলের স্থায়ী কমিটির রুলিং বা সিদ্ধান্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল
চেয়ারম্যানকে বিশেষ বিষয়ে পরামর্শের জন্য সহ-সভাপতির পদ মর্যাদায় ১৫ জন উপদেষ্টা থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে চেয়ারম্যান উপরোক্ত সংখ্যা বাড়াতে পারবেন। তারা চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বলে গণ্য হবেন।

৭। কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা
নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোন পর্যায়ে যে কোন নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেঃ
(ক) ফৌজধারী বিধিতে দণ্ডিত ব্যক্তি;
(খ) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৮ এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি;
(গ) দেউলিয়া;
(ঘ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি;
(ঙ) সমাজের দুর্নীতি পরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

৮। চেয়ারম্যান
প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে দলের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন। ৩০ বছরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না।

(ক) চেয়ারম্যান নির্বাচন
জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের সরাসরি ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ২ বছরের জন্য দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। মেয়াদ শেষে চেয়ারম্যান পদে একই ব্যক্তি পুনরায় নির্বাচিত হতে পারবেন।

(খ) চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের উপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।
(২) উপরোক্ত কমিটিসমূহের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্-িমূলক ব্যবস্থাও চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে নিতে পারবেন।
(৩) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসাবে উক্ত কমিটির কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য চেয়ারম্যান নিরূপণ করবেন।
(৪) চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহ বাতিল করে দিতে পারেন।
(৫) চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাসমূহে সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনবোধে তিনি অন্য সদস্যের উপর অর্পণ করতে পারবেন।

(গ) চেয়ারম্যানের অপসারণ
জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দাবিকৃত জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের ভোট যদি চেয়ারম্যানের অপসারণের অনুকূলে হয় তাহলে চেয়ারম্যানকে অপসারিত করা যাবে। তবে জাতীয় কাউন্সিলের উক্ত দাবিতে চেয়ারম্যানের অপসারণই সভায় একমাত্র বিষয়বস্তু হিসাবে দেখাতে হবে এবং অপসারণের কারণ স্পষ্টভাবে লিখিত থাকতে হবে।

৯। সভা, নোটিশ, কোরাম
(ক) জাতীয় কাউন্সিল
দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহবান করতে পারবেন। কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যা ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য কাউন্সিলের সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে বছরে অন্-তঃ একবার জাতীয় কাউন্সিল মিলিত হবেন। অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে। জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) দাবিতে অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের “দাবী সভা” অনুষ্ঠিত হতে পারবে। তবে এ সভায় নোটিশে সুস্পষ্টভাবে দাবির বিষয়বস্তুর উল্লেখ থাকতে হবে।

(খ) জাতীয় নির্বাহী কমিটি
দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহবান করতে পারবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য উক্ত কমিটির সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ৭ দিনের নোটিশে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহবান করা যেতে পারে। তবে জরুরী সভার জন্য ৪৮ ঘন্টার নোটিশই যথেষ্ট হবে। মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্যের দাবিতে এবং সুস্পষ্ট ৭ দিনের উপরোক্তভাবে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা দাবি করা যেতে পারে এবং কমিটির মহাসচিব যদি সেই আহবান না করেন, তবে কমিটির চেয়ারম্যান উক্ত সভা আহবান করবেন।

(গ) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
দলের চেয়ারম্যান যে কোন সময় তাঁর ইচ্ছানুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহবান করতে পারেন তবে প্রতি মাসে অন্-ত একবার স্থায়ী কমিটির সভার মিলিত হতে হবে। মোট সদস্য সংখ্যার ৫০ ভাগ সদস্য নিয়ে এ সভার কোরাম গঠিত হবে।

(ঘ) গ্রাম থেকে জেলা নির্বাহী কমিটি
দলের গ্রাম থেকে জেলা পর্যন্- সমস্- পর্যায়ের নির্বাহী কমিটির সভা উক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক উক্ত কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করে আহবান করতে পারবেন। ঐ সমস্- পর্যায়ের আহবায়ক কমিটির সভা উক্ত কমিটির আহবায়ক আহবান করতে পারবেন। সকল পর্যায়ে এ সমস্- নির্বাহী ও আহবায়ক কমিটির সভায় কোরাম সংশ্লিষ্ট মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে।

১০। তহবিল
দলের কোষাধ্যক্ষ সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংগঠনের হিসাব খোলা হবে এবং সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক এই তিনজনের যে কোন দুইজনের যুক্ত স্বাক্ষরে তহবিল পরিচালনা করা যাবে, তবে যুক্ত স্বাক্ষরে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকতেই হবে। দলের হিসাব প্রতি বছর অডিট করাতে হবে এবং অর্থ বছর সমাপ্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। সদস্যের চাঁদা ও দান সংগ্রহের মাধ্যমে দলের তহবিল সৃষ্টি করা হবে।

১১। বিধি ও উপবিধি
যে ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে কোন সুনির্দিষ্ট বিধান নাই, জাতীয় স্থায়ী কমিটি যে ক্ষেত্রে বিধি ও উপবিধি প্রণয়ন করতে পারবেন।

১২। গঠনতন্ত্র সংশোধন
গঠনতন্ত্র সংশোধনের নিয়মাবলী নিম্নরূপ হবেঃ
জাতীয় কাউন্সিলের যে কোন সদস্য লিখিতভাবে গঠনতন্ত্রের সংশোধনের প্রস্তাব করতে পারেন। উক্ত প্রস্তাব দলের মহাসচিব-এর নিকট প্রেরণ করতে হবে যাতে করে মহাসচিব প্রস্তাবটি জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় পেশ করতে পারেন, তবেঃ
(ক) প্রস্তাবিত সংশোধনী যে সভায় বিবেচিত হবে, যে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্-ত ৭ দিন আগে জাতীয় কাউন্সিলের সকল সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবের অনুলিপি বিতরণ করতে হবে। এই সংশোধনী গৃহীত হতে হলে সভায় উপস্থিত সদস্যদের তিন ভাগের দুই ভাগকে প্রস্তাবের অনুকূলে ভোট দিতে হবে।
(খ) জরুরী কারণে যদি কোন সংশোধনীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে, দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রে সে সংশোধন করতে পারবেন, তবে জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় ‘ক’তে বর্ণিত সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উক্ত সংশোধনীকে গৃহীত হতে হবে।

১৩। অঙ্গ-সংগঠন
দলের এক বা একাধিক অঙ্গ-সংগঠন থাকতে পারে। এই সকল অঙ্গ-সংগঠনের নিজস্ব ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, পতাকা ও কার্যালয় থাকবে এবং এই সকল অঙ্গ-সংগঠন মূল দলের শৃঙখলার আওতাধীন থাকবে। দলের চেয়ারম্যান শৃঙখলা ভঙ্গের জন্য কিংবা সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য কিংবা অসদাচরণের জন্য যে কোন সময় অঙ্গ সংগঠনের কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সংগঠন থেকে তাঁকে বহিষ্কার করতে কিংবা সাময়িকভাবে সদস্য পদ স্থগিত করতে কিংবা তিরস্কার করতে নির্দেশ বা পরামর্শ দিতে পারবেন।

অঙ্গ সংগঠন হিসাবে দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্- কোন সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে বিবেচিত হবে না। অনুমোদনের তারিখ হতে অঙ্গ সংগঠনের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে প্রত্যেক অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কিত একজন সম্পাদক থাকবে। দলের কর্মসূচী বাস্তবায়নের সহযোগিতা করাই হবে অঙ্গ সংগঠনের মূখ্য উদ্দেশ্যে এবং এ উদ্দেশ্যে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দলের প্রভাব বিস্তার কিংবা দলের নীতির প্রসার করার উদ্দেশ্যে এ সংগঠন তাদের নিজস্ব কর্মসুচী প্রণয়ন করবে। তবে অঙ্গ সংগঠনসমূহের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র এবং পতাকা চেয়ারম্যান কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদিত হতে হবে এবং যদি কোন অঙ্গ সংগঠন তাদের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র বা পতাকার কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করতে চায় তাহলে চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ছাড়া তার কোনটাই কার্যকর করা যাবে না।

দল অঙ্গ সংগঠনের এ সকল কর্মসূচী বাস্-বায়নে তাদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করবে। এ পর্যন্ত যে সমস্ত সংগঠন দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেয়ে অঙ্গ সংগঠন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তারা হচ্ছেঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল

তপশীল-১
ফরম-‘ক’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

সদস্য হওয়ার আবেদনপত্র নং
১। নাম ……………………………………….
২। বয়স ………………………………………
৩। পিতা/স্বামীর নাম ………………………….
৪। ঠিকানাঃ গ্রাম/ওয়ার্ড ………………………. ডাকঘর ……………………
থানা ………………………………………. জেলা ………………………
৫। শিক্ষাগত যোগ্যতা …………………………
৬। পেশা ……………………………………….
৭। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে ঘোষণা করিতেছি যে,
আমি নিম্নবর্ণিত আদর্শ ও লক্ষ্যে বিশ্বাসী।
(১) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ-
(২) জনগণের গণতন্ত্র-
(৩) জাতীয় ঐক্য-
(৪) দলীয় ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও শৃঙখলা এবং ১৯৭৭ সালে জনসমর্থিত ১৯ দফা কর্মসূচীর বাস্-বায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের শান্-ি ও সমৃদ্ধি অর্জন।

স্থানঃ ……………………
তারিখঃ …………………. …………………………
স্বাক্ষর
তপশীল-১
ফরম-‘খ’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
সদস্য পরিচয় পত্র

১। নাম ……………………………………….
২। বয়স ………………………………………
৩। পিতা/স্বামীর নাম ………………………….
৪। ঠিকানাঃ গ্রাম/ওয়ার্ড …………………….
ডাকঘর ………………………..
থানা ……………………………
জেলা …………………………..

……………………… ………………………..
স্বাক্ষর প্রতিস্বাক্ষর

দলীয় সংগীত
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ (২)

আমার আংগিনায় ছড়ানো বিছানো
সোনা সোনা ধূলি কণা
মাটির মমতায় ঘাস ও ফসলে সবুজের আলপনা
আমার তাতেই হয়েছে স্বপ্নের বীজ বোনা।
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ ………………… (২)

অপরূপ জোছনায় সাজানো রাংগানো
ঝিলিমিলি চাঁদ দোলে
নিবিড় বন-ছায় পিউ পাপিয়া হৃদয়ের
তান তোলে
আমার তাতেই রেখেছি শান্-ির দীপ জ্বেলে।
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ …………………..(২)

(দলীয় সংগীত গাইবার সময় দয়া করে
আপনিও অংশগ্রহণ করুন)

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রচার সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত