Monday, 10 June 2013

দলীয় সংবিধান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

(৩০শে নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখ পর্যন্ত- সংশোধিত)

১। নাম
এ সংগঠনের নাম হবে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। ইংরেজীতে এ সংগঠনকে ‘Bangladeshi Nationalist Party’ (BNP) এবং সংক্ষেপে এ দলটিকে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ বলে অভিহিত করা হবে। এ দলের জাতীয় কার্যালয় তথা কেন্দ্রীয় সদর দফতর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং দলের সদর দফতর বা কেন্দ্রীয় অফিসের সংগঠন চেয়ারম্যানের দায়িত্বাধীন থাকবে এবং অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদবী, দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতা চেয়ারম্যান নিজে নিরূপণ করবেন।

২। উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য
জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষেপে এ দলের কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিচে বর্ণিত হলোঃ

(ক) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ-ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা।
(খ) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া-উপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।
(গ) উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন।
(ঘ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামে-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা ও বাস্-বায়নের ক্ষমতা ও দক্ষতা জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
(ঙ) এমন এক সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্-রে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়।
(চ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চিতি দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাঁদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারবেন।
(ছ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন।
(জ) গণতান্ত্রিক জীবন ধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসাবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।
(ঝ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোন সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজন্সী গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা।
(ঞ) জাতীয় জীবনে মানবমুখী সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা।
(ট) বাস্-বধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার-ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশী নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায়।
(ঠ) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
(ড) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস্-বভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা।
(ঢ) বাস্-বধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।
(ণ) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসার সাধন।
(ত) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগপ্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিষে করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা।
(থ) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্-র্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা। সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে, তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ় করা।

৩। সংগঠনের পতাকা
এই সংগঠনের পতাকার ঊর্দ্ধার্ধ লাল এবং নিম্বার্ধ সবুজ রঙের হবে। পতাকার মদ্যস্থলে কালো রঙয়ের একটি শিল্পচক্র থাকবে। এই চক্রবৃত্তের বিন্দু থেকে লাল সবুজের সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত হবে এক ছড়া সোনালী ধানের শীষ এবং প্রসারিত হবে উপরের দিকে। ধানের শীষের উপরে থাকবে একটি শ্বেত-বর্ণের তারকা। সবুজ হচ্ছে দশের প্রতীক, লাল হচ্ছে স্বাধীনতার যুদ্ধ ও ত্যাগের প্রতীক, শিল্পচক্র হচ্ছে উন্নতি ও অগ্রগতির প্রতীক, ধানের শীষ হচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পেরপ্রতীক এবং শ্বেত-বর্ণের তারকা হচ্ছে আমাদের জাতীয় আশা-আকাঙক্ষার প্রতীক।

৪। শব্দার্থ
(ক) ‘ওয়ার্ড’, ‘ইউনিয়ন’, ‘থানা’, ‘শহর’/‘পৌরসভা’, ‘নগর’ এই শব্দগুলো বাংলাদেশের সরকার/নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেওয়া অর্থই বোঝাবে।
(খ) ‘গঠনতন্ত্র’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক না হলে দলের গঠনতন্ত্রকেই বোঝাবে।
(গ) যদি গঠনতন্ত্রে অন্যভাবে বোঝানো না হয়ে থাকে তবে ‘জেলা’ বলতে প্রশাসনিক জেলা বোঝাবে।
(ঘ) ‘চেয়ারম্যান’ শব্দটি ক্ষেত্র বিশেষ চেয়ারপার্সনকেও বোঝাবে।
(ঙ) ‘দল’ শব্দটি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’কে বোঝাবে।
(চ) ‘সদস্য’ শব্দটি যদি কমিটির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত না হয়ে থাকে তা হলে দলের প্রাথমিক সদস্যকে বোঝাবে।

৫। সদস্য পদ
(ক) সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা
(১) ১৮ বছর বা ততোধিক বয়সের যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক এ দলের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবে। ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সংগঠনের ঘোষণাপত্রের, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচীর প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করতে হবে।
(২) প্রাথমিক সদস্য পদের আবেদনপত্র এই গঠনতন্ত্রের তপশীল ১-এ ‘ক’ ফরমে করতে হবে। ফরম দলের অফিসে পাওয়া যাবে। সদস্য পদের আবেদনপত্র অন্য কোন ফরমে গ্রহণযোগ্য হবে না, তবে কোন সময় যদি এই ফরম দলের অফিসে না পাওয়া যায় তাহলে অনুরূপ ফরম ছাপিয়ে নিয়ে সদস্য পদের আবেদন করা যেতে পারে।
(৩) বিবেচনার পর আবেদনপত্র গৃহীত হলে সদস্য পদের প্রমাণস্বরূপ পরিচয়পত্র (তপশীল ১) ‘খ’ ফরমে প্রত্যেক সদস্যকে দিতে হবে।
(৪) এ দলের প্রাথমিক সদস্য চাঁদা ২/- টাকা মাত্র। সদস্য পদ লাভের পরবর্তী বছর থেকে দলের বাৎসরিক চাঁদা ১/- (এক) টাকা মাত্র। সদস্যদের চাঁদা রসিদ মারফত গৃহীত হবে এবং রসিদ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।
(৫) প্রত্যেকটি থানা অফিস তাদের স্ব স্ব এলাকায় প্রত্যেক প্রাথমিক সদস্য পদের তালিকা সংরক্ষণ করবেন। জাতীয় সদর অর্থাৎ দলের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় অফিসে দলের সর্বমোট সদস্য সংখ্যা, সদস্যদের নাম ও ঠিকানাসহ বিধিসম্মতভাবে সংরক্ষিত হবে।

(খ) সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতা
(১) বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন এমন কোন ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবে না।
(২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরোধী, গোপন সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি বা সমাজ-বিরোধী ও গণবিরোধী কোন ব্যক্তিকে এই সংগঠনের সদস্য পদ দেয়া হবে না।

(গ) সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্-মূলক ব্যবস্থা
দলের স্থায়ী কমিটি দলের কোন সদস্যের অসদাচরণের কারণে কিংবা শৃঙখলা ভঙ্গের কারণে কিংবা দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কোন কর্মকাণ্ডের কারণে তার সদস্যপদ বাতিল কিংবা সাময়িকবাবে সদস্যপদ স্থগিত কিংবা তার বিরুদ্ধে অন্য যে কোন শাস্-িমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঙ্গতকারণে পূর্বে নেয়া যে কোন শাস্-িমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবে। কোন কারণে স্থায়ী কমিটির সভা আহবান করা সম্ভব না হলে জরুরী প্রয়োজনে দলের চেয়ারম্যান নিজ বিবেচনায় শাস্তি যোগ্য মনে করলে যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ এবং পূর্বে নেয়া যে কোন শাস্-িমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে সকল ক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। চেয়ারম্যান অথবা স্থায়ী কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পূর্বে প্রয়োজনবোধে অভিযুক্ত সদস্যকে ব্যক্তিগত শুনানীর সুযোগ দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে একটি নোটিশ ডাকে

(ঘ) সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ
(১) দলের যে কোন সদস্য দলের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।
(২) দল কর্তৃক মনোনীত কোন সংসদ সদস্য যদি সংসদে দলের সংসদীয় দলের নেতানেত্রীর সম্মতি ছাড়া নিজের নির্দিষ্ট আসন পরিবর্তন করেন বা অন্য দলের সাথে জোট বাঁধেন বা ফ্লোরক্রস করেন বা সংসদের দলীয় অবস্থানের পরিপন্থী কোন কাজ করেন তাহলে উপরোক্ত যে কোন কার্যের কারণে সেই সংসদ সদস্য এই দল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

৬। (ক) সাংগঠনিক নীতিমালা ও কাঠামো
জাতীয়তাবাদী দল দেশের মৌলিক স্তর গ্রাম/ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সংগঠিত হয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্- সম্প্রসারিত হবে।
দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ হবেঃ
(১) গ্রাম কাউন্সিল ও গ্রাম নির্বাহী কমিটি
(২) শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল ও শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি
(৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি
(৪) থানা কাউন্সিল ও থানা নির্বাহী কমিটি
(৫) শহর/পৌরসভা কাউন্সিল ও শহর পৌরসভা নির্বাহী কমিটি
(৬) জেলা কাউন্সিল ও জেলা নির্বাহী কমিটি
(৭) নগর/ওয়ার্ড কাউন্সিল ও নগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি
(৮) নগর থানা কাউন্সিল ও নগর থানা নির্বাহী কমিটি
(৯) নগর কাউন্সিল ও নগর নির্বাহী কমিটি
(১০) জাতীয় কাউন্সিল
(১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটি
(১২) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
(১৩) পার্লামেন্টারী বোর্ড
(১৪) পার্লামেন্টারী পার্টি
(১৫) বিদেশে দলের শাখা।

(খ) সাংগঠনিক কাঠামোর গঠন প্রণালী

(১) গ্রাম কাউন্সিল ও গ্রাম নির্বাহী কমিটি
প্রতি গ্রামে ন্যূনতম ৫০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দফতর সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ২১ জনের অনূধর্ব একটি গ্রাম নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন।

(২) শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল ও শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি
প্রতিটি জেলার শহর বা পৌরসভাভূক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ১৫০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, তিনজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৫১ জনের অনূধর্ব একটি শহর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। এ কমিটি দলের ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে। থানা কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি
ইউনিয়নভূক্ত প্রতিটি গ্রামের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের ইউনিয়ন কাউন্সিল। এ কাউন্সিল দুই বৎসর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, তিনজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৫১ জনের অনূধর্ব একটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। থানা কমিটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৪) থানা কাউন্সিল ও থানা নির্বাহী কমিটি
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ এই প্রতিটি নগরের অন্-র্ভূক্ত ওয়ার্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দদের নিয়ে সেই নগরে দলের নগর থানা কাউন্সিল গঠিতহবে। এই কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে একজন সভাপতি, পাঁচজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন সহকারী দপ্তর সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ৭১ জনের অনূধর্ব একটি নগর থানা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। নগর নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দিবে।

(৯) নগর কাউন্সিল ও নগর নির্বাহী কমিটি
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ এই প্রতিটি নগরের অন্-র্ভূক্ত প্রতিটি থানা নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে সেই নগরে দলের নগর কাউন্সিল গঠিত হবে। এই কাউন্সিলের দুই বছর মেয়াদে একজন সভাপতি, সাতজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন সহ-দপ্তর সম্পাদক, একজন সহ-প্রচার সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষ সমন্বয়ে গঠিত ১০১ জনের অনূধর্ব একটি নগর নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে। দলের নগর নির্বাহী কমিটি দলের জেলা নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে। চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব নগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন।

নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় কাউন্সিলসমূহ স্ব স্ব এলাকায় প্রয়োজনবোধে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের জন্য এক বা একাধিক সম্পাদক নির্বাচিত করতে পারেন, যদিও কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা কোনক্রমেই যার যার এলাকা-কমিটির সীমিত সংখ্যা অতিক্রম করতে পারবে নাঃ

তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক
আইন বিষয়ক
স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক
ছাত্র বিষয়ক
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক
পল্লী উন্নয়ন, সমবায় ও গ্রাম বিষয়ক
খাদ্য ও কৃষি
নিরক্ষরতা দুরীকরণ ও শিক্ষা
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
মহিলা বিষয়ক
যুব সম্প্রদায় বিষয়ক
কৃষক সম্প্রদায় বিষয়ক
শিশু কল্যাণ
প্রচারণা ও প্রকাশনা বিষয়ক
বন ও পরিবেশ বিষয়ক
মৎস্য চাষ বিষয়ক
বৃক্ষ রোপন বিষয়ক
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক
তাঁতী বিষয়ক
বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ

প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, শহর/পৌরসভা, নগর ওয়ার্ড, নগর থানা, জেলা ও নগর নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কমপক্ষে শতকরা দশ ভাগ দলের মহিলা সদস্যদের মধ্য থেকে থাকতে হবে।
দলের নির্বাচিত বিভিন্ন নির্বাহী কমিটিসমূহ স্ব স্ব এলাকায় দলের কর্মসূচী বাস্-বায়ন, তদারক ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

(১০) জাতীয় কাউন্সিল
(ক) ‘জাতীয় কাউন্সিল’ নামে দলের একটি জাতীয় কাউন্সিল থাকবে যার গঠন পদ্ধতি নিম্নরূপ হবেঃ
(১) প্রতি থানা নির্বাহী কমিটির (নগর থানাসহ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(২) প্রতি শহর/পৌরসভার নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(৩) প্রতি জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(৪) প্রতি নগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,
(৫) প্রতি জেলা ও নগর নির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত প্রতি জেলা ও নগর হতে দুইজন মহিলা সদস্য,
(৬) পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ,
(৭) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ,
(৮) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ,
(৯) চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত উপরে বর্ণিত ১ হতে ৮ এর মোট সদস্য সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ।

(গ) বিষয় কমিটি
দলের চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনবোধে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিষয় কমিটি মনোনীত করতে পারবেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যে সমস্- বিষয়ে এ ধরনের কমিটি গঠিত হতে পারে সেগুলো হচ্ছেঃ জাতীয় পরিকল্পনা ও অর্থ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পল্লী উন্নয়ন, খাদ্য ও কৃষি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা, শ্রম কল্যান, মহিলা, যুব সম্প্রদায়, আন্-র্জাতিক বিষয় ও শিশু কল্যান, এই সমস্- কমিটিসমূহে দলের সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও সুদক্ষ এমন ব্যক্তিদেরকেও কো-অপ্ট করা যাবে, তবে কোন অবস্থাতেই এদের সংখ্যা কমিটির নির্ধারিত মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশী হবে না। কমিটিতে কো-অপ্ট করা সদস্যবৃন্দ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

(১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

অনূধর্ব ২৫১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। তবে দলের চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা বা সদস্যদের সংখ্যা নিরূপণে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্তু মোট সদস্য সংখ্যা ২৫১ জনের ঊধের্ব দশ শতাংশের বেশী বৃদ্ধি করা যাবেনা এবং এই ক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। প্রত্যেক জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও প্রত্যেক নগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি তাঁদের পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্যের শতকরা ১০ ভাগ মহিলা সদস্য হতে হবে এবং এই কমিটিতে মোট সংখ্যা শতকরা ১০ ভাগ সদস্য শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধা কৃষক, উপজাতি ও সমাজের অন্যান্য স্-রের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে নিতে হবে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটি নিম্নলিখিত কর্মকর্তাসহ দলের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবে, তবে এই কমিটির অন্-তঃ এক-তৃতীয়াংশ জাতীয় কাউন্সিল থেকে নিতে হবে।

সভাপতি (চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে) ১
সহ-সভাপতি ১৫
মহাসচিব ১
যুগ্ম মহাসচিব ৭
দফতর সম্পাদক ১
কোষাধ্যক্ষ ১
সাংগঠনিক সম্পাদক ৫
সম্পাদক-বিশেষ দায়িত্বে ১
প্রচার সম্পাদক ২
সম্পাদক-আন্-র্জাতিক বিষয়ক ৪
সম্পাদক-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক ১
সম্পাদক-আইন বিষয়ক ১
সম্পাদক-সমাজ কল্যান বিষয়ক ১
সম্পাদক-ক্রীড়া বিষয়ক ১
সম্পাদক-সাংস্কৃতিক বিষয়ক ১
সম্পাদক-যুব সম্প্রদায় বিষয়ক ১
সম্পাদক-মহিলা বিষয়ক ১
সম্পাদক-ধর্ম বিষয়ক ১
সম্পাদক-ছাত্র বিষয়ক ১
সম্পাদক-শ্রমিক বিষয়ক ১
সম্পাদক-স্বনির্ভর সম্পর্কীয় বিষয়ক ১
সম্পাদক-কৃষি বিষয়ক ১
সম্পাদক-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক ১
সম্পাদক-গণশিক্ষা বিষয়ক ১
সম্পাদক-বন ও পরিবেশ বিষয়ক ১
সম্পাদক-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক ১
সম্পাদক-সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক ১
সম্পাদক-শিল্প বিষয়ক ১
সম্পাদক-ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক ১
সম্পাদক-অর্থনৈতিক বিষয়ক ১
সম্পাদক-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক ১
সম্পাদক-শিক্ষা বিষয়ক ১
সম্পাদক-গ্রাম সরকার বিষয়ক ১
সম্পাদক-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক ৫
সম্পাদক-প্রকাশনা বিষয়ক ১
সম্পাদক-তাঁতী বিষয়ক ১
সম্পাদক-শিশু বিষয়ক ১
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ৫
সহকারী দপ্তর সম্পাদক ১

জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্ব নিম্নরূপ হবেঃ
(ক) দলের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্বের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা।
(খ) প্রয়োজনবোধে দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্-িমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(গ) দলে কর্মসূচী বাস্-বায়ন ও তদুদ্দেশ্যে প্রস্-াব গ্রহণ ও নির্দেশ প্রদান করা।
(ঘ) বৈধতা প্রশ্নে কমিটিসমূহের অন্-র্দ্বন্দ্ব মেটানো।
(ঙ) দলের অঙ্গ সংগঠনসমূহের কার্যকলাপের তদারক, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা।
(চ) জাতীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশে অন্যান্য কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করা।
প্রতি তিন মাসে অন্তঃ একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে তবে প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় এ কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে।

(১২) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি ১৫ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ তাদের পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য বলে গণ্য হবেন।
জাতীয় স্থায়ী কমিটি নিম্নোক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেনঃ
(ক) দলের প্রধান নীতি-নির্ধারক অঙ্গ হিসাবে এ কমিটি দলের নীতি ও কর্মসূচী প্রণয়ন ও প্রবর্তন করবেন।
(খ) একমাত্র চেয়ারম্যান অপসারণ ব্যতীত দলের অন্যান্য সমস্- শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পুনর্বিচারের ক্ষমতা এ কমিটির থাকবে।
(গ) এ কমিটি প্রয়োজনবোধে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, বিধি, উপবিধি ও ধারায় যথাযথ সঙ্গতিপূর্ণ ব্যাখ্যা করবেন এবং সে ব্যাখ্যা চুড়ান্- বলে গণ্য হবে।
(ঘ) দলের সদস্যরা যাতে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, উপধারা, বিধি, উপবিধির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন এবং মেনে চলেন এ কমিটি সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখবেন।
(ঙ) এ কমিটি দলের প্রচারপত্র ও অন্যান্য প্রকাশনার অনুমোদন দান করবেন এবং এ কমিটির অনুমোদন ব্যতীত দলের কোন প্রচারপত্র বা প্রকাশনা প্রকাশ বা বিতরণ করা চলবে না।
(চ) এ কমিটি গ্রাম পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্- যে কোন নির্বাহী কমিটির কাজ সাময়িকভাবে মূলতবী রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন কিংবা প্রয়োজনবোধে তা বাতিল করে দিয়ে পূনঃ নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবেন। পূনঃনির্বাচনের জন্য স্থায়ী কমিটি একজন আহবায়ক বা বিশেষ ক্ষেত্রে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কমিটির পুনঃ গঠন ও পুনঃ নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবেন।
(ছ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয় কমিটিসমূহের আওতাভূক্ত যে কোন বিষয়ের উপর রিপোর্ট পেশ করার জন্য উক্ত কমিটিসমূহকে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(জ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করবেন।

(১৩) পার্লামেন্টারী বোর্ড
জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যে কোন নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য জাতীয় একটি পার্লামেন্টারী বোর্ড থাকবে। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দলের পার্লামেন্টারী বোর্ড। তবে যে জেলার প্রার্থী মনোনয়নের জন্য পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভা আহুত হবে সেই জেলার সভাপতি, প্রথম তিনজন সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত সভার পার্লামেন্টারী বোর্ডের সদস্য বলে গণ্য করা হবে। তবে কোন সদস্য যদি নির্বাচন প্রার্থী হন তার নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী বিবেচনাকালে বোর্ডের সভায় তিনি অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। দলের চেয়ারম্যান হবেন পার্লামেন্টারী বোর্ডের সভাপতি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিংবা যে কোন নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারী বোর্ড পালন করবেন এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্- চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

(১৪) পার্লামেন্টারী পার্টি
জাতীয় সংসদে দলের সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের পার্লামেন্টারী পার্টি। দলের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে এ পার্টি তার নেতা, উপনেতা, চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের নির্বাচিত করবেন। পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যবৃন্দ পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হবেন।

(১৫) বিদেশে দলের শাখা
বাংলাদেশের বাইরে দলের বিভিন্ন শাখা থাকতে পারে। বিদেশী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমগ্র দেশের জন্য যে কমিটি থাকবে সেই কমিটির অনুমোদন দেবেন দলের চেয়ারম্যান এবং অনুমোদিত হওয়ার পর সেই কমিটি দলের জেলা কমিটির মর্যাদা লাভ করবে এবং অনূধর্ব ১০১ সদস্য সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হবে।
এ কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে গণ্য হবে। এ কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দলের জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের বাইরে বিদেশী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নীচে অন্যান্য স্থানীয় কমিটি কিংবা আঞ্চলিক কমিটি কিংবা জোনাল কমিটি থাকতে পারে। এ সমস্- কমিটির সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ৭১ জন হলে এবং সে কাউন্সিলের মাধ্যমে এ কমিটি নির্বাচিত হবে সে কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ১০০ জন হলে, সে কমিটি দলের থানা কমিটির মর্যাদা পাবে এবং কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে গণ্য হবে।
বিদেশে দলের শাখার সাংগঠনিক কাঠামো বা গঠন প্রণালী সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন উঠলে তা দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির মতামতের জন্য প্রেরণ করতে হবে এবং দলের স্থায়ী কমিটির রুলিং বা সিদ্ধান্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল
চেয়ারম্যানকে বিশেষ বিষয়ে পরামর্শের জন্য সহ-সভাপতির পদ মর্যাদায় ১৫ জন উপদেষ্টা থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে চেয়ারম্যান উপরোক্ত সংখ্যা বাড়াতে পারবেন। তারা চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বলে গণ্য হবেন।

৭। কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা
নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোন পর্যায়ে যে কোন নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেঃ
(ক) ফৌজধারী বিধিতে দণ্ডিত ব্যক্তি;
(খ) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৮ এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি;
(গ) দেউলিয়া;
(ঘ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি;
(ঙ) সমাজের দুর্নীতি পরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

৮। চেয়ারম্যান
প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে দলের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন। ৩০ বছরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না।

(ক) চেয়ারম্যান নির্বাচন
জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের সরাসরি ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ২ বছরের জন্য দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। মেয়াদ শেষে চেয়ারম্যান পদে একই ব্যক্তি পুনরায় নির্বাচিত হতে পারবেন।

(খ) চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের উপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।
(২) উপরোক্ত কমিটিসমূহের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্-িমূলক ব্যবস্থাও চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে নিতে পারবেন।
(৩) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসাবে উক্ত কমিটির কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য চেয়ারম্যান নিরূপণ করবেন।
(৪) চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহ বাতিল করে দিতে পারেন।
(৫) চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাসমূহে সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনবোধে তিনি অন্য সদস্যের উপর অর্পণ করতে পারবেন।

(গ) চেয়ারম্যানের অপসারণ
জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দাবিকৃত জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের ভোট যদি চেয়ারম্যানের অপসারণের অনুকূলে হয় তাহলে চেয়ারম্যানকে অপসারিত করা যাবে। তবে জাতীয় কাউন্সিলের উক্ত দাবিতে চেয়ারম্যানের অপসারণই সভায় একমাত্র বিষয়বস্তু হিসাবে দেখাতে হবে এবং অপসারণের কারণ স্পষ্টভাবে লিখিত থাকতে হবে।

৯। সভা, নোটিশ, কোরাম
(ক) জাতীয় কাউন্সিল
দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহবান করতে পারবেন। কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যা ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য কাউন্সিলের সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে বছরে অন্-তঃ একবার জাতীয় কাউন্সিল মিলিত হবেন। অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে। জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) দাবিতে অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের “দাবী সভা” অনুষ্ঠিত হতে পারবে। তবে এ সভায় নোটিশে সুস্পষ্টভাবে দাবির বিষয়বস্তুর উল্লেখ থাকতে হবে।

(খ) জাতীয় নির্বাহী কমিটি
দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহবান করতে পারবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য উক্ত কমিটির সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ৭ দিনের নোটিশে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহবান করা যেতে পারে। তবে জরুরী সভার জন্য ৪৮ ঘন্টার নোটিশই যথেষ্ট হবে। মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্যের দাবিতে এবং সুস্পষ্ট ৭ দিনের উপরোক্তভাবে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা দাবি করা যেতে পারে এবং কমিটির মহাসচিব যদি সেই আহবান না করেন, তবে কমিটির চেয়ারম্যান উক্ত সভা আহবান করবেন।

(গ) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
দলের চেয়ারম্যান যে কোন সময় তাঁর ইচ্ছানুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহবান করতে পারেন তবে প্রতি মাসে অন্-ত একবার স্থায়ী কমিটির সভার মিলিত হতে হবে। মোট সদস্য সংখ্যার ৫০ ভাগ সদস্য নিয়ে এ সভার কোরাম গঠিত হবে।

(ঘ) গ্রাম থেকে জেলা নির্বাহী কমিটি
দলের গ্রাম থেকে জেলা পর্যন্- সমস্- পর্যায়ের নির্বাহী কমিটির সভা উক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক উক্ত কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করে আহবান করতে পারবেন। ঐ সমস্- পর্যায়ের আহবায়ক কমিটির সভা উক্ত কমিটির আহবায়ক আহবান করতে পারবেন। সকল পর্যায়ে এ সমস্- নির্বাহী ও আহবায়ক কমিটির সভায় কোরাম সংশ্লিষ্ট মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে।

১০। তহবিল
দলের কোষাধ্যক্ষ সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংগঠনের হিসাব খোলা হবে এবং সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক এই তিনজনের যে কোন দুইজনের যুক্ত স্বাক্ষরে তহবিল পরিচালনা করা যাবে, তবে যুক্ত স্বাক্ষরে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকতেই হবে। দলের হিসাব প্রতি বছর অডিট করাতে হবে এবং অর্থ বছর সমাপ্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। সদস্যের চাঁদা ও দান সংগ্রহের মাধ্যমে দলের তহবিল সৃষ্টি করা হবে।

১১। বিধি ও উপবিধি
যে ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে কোন সুনির্দিষ্ট বিধান নাই, জাতীয় স্থায়ী কমিটি যে ক্ষেত্রে বিধি ও উপবিধি প্রণয়ন করতে পারবেন।

১২। গঠনতন্ত্র সংশোধন
গঠনতন্ত্র সংশোধনের নিয়মাবলী নিম্নরূপ হবেঃ
জাতীয় কাউন্সিলের যে কোন সদস্য লিখিতভাবে গঠনতন্ত্রের সংশোধনের প্রস্তাব করতে পারেন। উক্ত প্রস্তাব দলের মহাসচিব-এর নিকট প্রেরণ করতে হবে যাতে করে মহাসচিব প্রস্তাবটি জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় পেশ করতে পারেন, তবেঃ
(ক) প্রস্তাবিত সংশোধনী যে সভায় বিবেচিত হবে, যে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্-ত ৭ দিন আগে জাতীয় কাউন্সিলের সকল সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবের অনুলিপি বিতরণ করতে হবে। এই সংশোধনী গৃহীত হতে হলে সভায় উপস্থিত সদস্যদের তিন ভাগের দুই ভাগকে প্রস্তাবের অনুকূলে ভোট দিতে হবে।
(খ) জরুরী কারণে যদি কোন সংশোধনীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে, দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রে সে সংশোধন করতে পারবেন, তবে জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় ‘ক’তে বর্ণিত সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উক্ত সংশোধনীকে গৃহীত হতে হবে।

১৩। অঙ্গ-সংগঠন
দলের এক বা একাধিক অঙ্গ-সংগঠন থাকতে পারে। এই সকল অঙ্গ-সংগঠনের নিজস্ব ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, পতাকা ও কার্যালয় থাকবে এবং এই সকল অঙ্গ-সংগঠন মূল দলের শৃঙখলার আওতাধীন থাকবে। দলের চেয়ারম্যান শৃঙখলা ভঙ্গের জন্য কিংবা সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য কিংবা অসদাচরণের জন্য যে কোন সময় অঙ্গ সংগঠনের কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সংগঠন থেকে তাঁকে বহিষ্কার করতে কিংবা সাময়িকভাবে সদস্য পদ স্থগিত করতে কিংবা তিরস্কার করতে নির্দেশ বা পরামর্শ দিতে পারবেন।

অঙ্গ সংগঠন হিসাবে দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্- কোন সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে বিবেচিত হবে না। অনুমোদনের তারিখ হতে অঙ্গ সংগঠনের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে প্রত্যেক অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কিত একজন সম্পাদক থাকবে। দলের কর্মসূচী বাস্তবায়নের সহযোগিতা করাই হবে অঙ্গ সংগঠনের মূখ্য উদ্দেশ্যে এবং এ উদ্দেশ্যে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দলের প্রভাব বিস্তার কিংবা দলের নীতির প্রসার করার উদ্দেশ্যে এ সংগঠন তাদের নিজস্ব কর্মসুচী প্রণয়ন করবে। তবে অঙ্গ সংগঠনসমূহের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র এবং পতাকা চেয়ারম্যান কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদিত হতে হবে এবং যদি কোন অঙ্গ সংগঠন তাদের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র বা পতাকার কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করতে চায় তাহলে চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ছাড়া তার কোনটাই কার্যকর করা যাবে না।

দল অঙ্গ সংগঠনের এ সকল কর্মসূচী বাস্-বায়নে তাদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করবে। এ পর্যন্ত যে সমস্ত সংগঠন দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেয়ে অঙ্গ সংগঠন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তারা হচ্ছেঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল

তপশীল-১
ফরম-‘ক’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

সদস্য হওয়ার আবেদনপত্র নং
১। নাম ……………………………………….
২। বয়স ………………………………………
৩। পিতা/স্বামীর নাম ………………………….
৪। ঠিকানাঃ গ্রাম/ওয়ার্ড ………………………. ডাকঘর ……………………
থানা ………………………………………. জেলা ………………………
৫। শিক্ষাগত যোগ্যতা …………………………
৬। পেশা ……………………………………….
৭। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে ঘোষণা করিতেছি যে,
আমি নিম্নবর্ণিত আদর্শ ও লক্ষ্যে বিশ্বাসী।
(১) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ-
(২) জনগণের গণতন্ত্র-
(৩) জাতীয় ঐক্য-
(৪) দলীয় ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও শৃঙখলা এবং ১৯৭৭ সালে জনসমর্থিত ১৯ দফা কর্মসূচীর বাস্-বায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের শান্-ি ও সমৃদ্ধি অর্জন।

স্থানঃ ……………………
তারিখঃ …………………. …………………………
স্বাক্ষর
তপশীল-১
ফরম-‘খ’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
সদস্য পরিচয় পত্র

১। নাম ……………………………………….
২। বয়স ………………………………………
৩। পিতা/স্বামীর নাম ………………………….
৪। ঠিকানাঃ গ্রাম/ওয়ার্ড …………………….
ডাকঘর ………………………..
থানা ……………………………
জেলা …………………………..

……………………… ………………………..
স্বাক্ষর প্রতিস্বাক্ষর

দলীয় সংগীত
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ (২)

আমার আংগিনায় ছড়ানো বিছানো
সোনা সোনা ধূলি কণা
মাটির মমতায় ঘাস ও ফসলে সবুজের আলপনা
আমার তাতেই হয়েছে স্বপ্নের বীজ বোনা।
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ ………………… (২)

অপরূপ জোছনায় সাজানো রাংগানো
ঝিলিমিলি চাঁদ দোলে
নিবিড় বন-ছায় পিউ পাপিয়া হৃদয়ের
তান তোলে
আমার তাতেই রেখেছি শান্-ির দীপ জ্বেলে।
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ …………………..(২)

(দলীয় সংগীত গাইবার সময় দয়া করে
আপনিও অংশগ্রহণ করুন)

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রচার সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত


Tuesday, 4 June 2013

‘অধিকাংশ কারখানা রাতারাতি ভেঙে পড়বে এমনটি নয়’ প্রথম আলো ডেস্ক | ০৫-০৬-২০১৩

বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ পোশাক কারখানা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে গত সোমবার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলী পরিচালিত একটি জরিপের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে ওই দাবি করা হয়। তবে জরিপ পরিচালনাকারী দল বলেছে, তারা পত্রিকার ওই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। তা ছাড়া, জরিপের কাজ এখনো শেষ হয়নি। জরিপ চলছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জরিপ দলের নেতা অধ্যাপক আনসারি প্রথম আলোকে বলেন, ‘৬০ শতাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ—কথাটি ঠিক নয়। তবে, এগুলো খুব সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। এগুলো রাতারাতি ভেঙে পড়বে, এমনটিও নয়।’ সাভারে রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১০০-এর বেশি পোশাককর্মীর মৃত্যু এবং আরও অনেক ব্যক্তির আহত হওয়ার বেদনাদায়ক ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টি এই জরিপ চালায় বলে গার্ডিয়ান-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পত্রিকাটি বলেছে, জরিপ দলের প্রকৌশলীরা এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে এমন ৬০০ ভবনের ১০০টিতে জরিপের কাজ শেষ করেছেন। প্রতিবেদনে অধ্যাপক আনসারির উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, জরিপ দলের জানার বাইরেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অনেক পোশাক কারখানা থাকতে পারে। তবে জরিপ পরিচালনাকারী দল চায়নি, এ নিয়ে কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি হোক। এ জন্য তারা বলেছে, ‘কারখানাগুলো এই মুহূর্তে চালু থাকতে পারে।’ পোশাক কারখানাগুলোর ঝুঁকি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি বলেছে, ‘এখন খুবই কঠিন সময়। রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনসের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

Saturday, 1 June 2013

বিশিষ্টজনদের সুপারিশ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ বাদ দিতে হবে :: কালের কন্ঠ ::


সংসদীয় বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রাখার বিরোধিতা করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক_সবাই বলেছেন, সংবিধানের মতো রাষ্ট্রীয় দলিলে ধর্ম যুক্ত হতে পারে না। এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে মিশ্র মতামত প্রকাশ পেয়েছে। 
জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা ওই সভায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের শুরুতে রাখা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যুক্ত করা, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি বন্ধে শাস্তির বিধান রাখা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, অবৈধ ক্ষমতাদখল ও সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন ঘটানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা, সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের রাখা এবং সংবিধান পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন।
বিশেষ কমিটির চেয়ারপারসন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, ড. আকবর আলি খান, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কলামিস্ট অজয় রায়, প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম মূসা, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার কবির, ড. আসিফ নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও এ এস এম শাজাহান এবং ড. বদিউল আলম মজুমদার। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, 
অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা উপস্থিত হননি।
সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। সভা শেষে তিনি বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর কোনোভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আপত্তি বা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা রাখতে হলে এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ সংবিধান থেকে বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও ধর্মের অপব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। 
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বলেন, দুই জেনারেল (জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদ) সম্পূর্ণ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটা ছিল তাঁদের মন-মতলবি কাজ। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে তাঁরা এটা করেননি। মূল সংবিধানে ফিরে যেতে এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে রাষ্ট্রধর্মের বিধান ও বিসমিল্লাহ বাদ দিতে হবে। 
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেন। এই মুহূর্তে এগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন। সভা থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখন সংশোধনীতে ওইগুলো বাদ দিলে নতুন করে গণ্ডগোল লাগবে, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মভিত্তিক দলের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল শুধু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তবে তিনি রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। 
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির রাষ্ট্রধর্ম, বিসমিল্লাহ ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাতিলের প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, 'বাহাত্তরের সংবিধানে বঙ্গবন্ধু যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ না রেখেও মুসলমান থাকতে পারেন, তবে এখন কেন হবে না?'
রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ রাখার ব্যাপারে বিরোধিতার কথা জানিয়ে টিআইবি চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের যে ইতিহাস নিয়ে সংবিধান রচিত হয়েছে_এটা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমি ধর্মভিত্তিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলতে পারি না। তবে ধর্মকে ব্যবহার করা, কাউকে আঘাত বা হেনস্থা করা এবং অন্যের ধর্মের প্রতি ঘৃণা তৈরির উদ্দেশ্যে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ হতে হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। আর রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগের মতো বিচার বিভাগকেও সংসদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবিধানকে আরো সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির ক্ষমতা সীমিত, আর সংসদ সদস্য হলেও বিশেষ কমিটির সবাই সংবিধান বিশেষজ্ঞ নন। তাই সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করতে হবে। যারা সংবিধান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অধিকতর সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করবে।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান।
লেখক সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার সংবিধানে তাই করতে হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি মনোনয়ন দিলে নারী প্রতিনিধির সংখ্যা বেড়ে যাবে। 
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দলিল হিসেবে সংবিধানে সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, উচ্চতর আদালত পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে আদি সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণভাবে পুনঃ স্থাপিত হয়েছে। ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। 
সভায় মানবাধিকার লঙ্ঘনে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।
আজ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক : আজ বেলা ১১টায় জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিশেষ কমিটি। এই বৈঠকে অংশ নিতে যে সব পত্রিকার সম্পাদককে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে_কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, জনকণ্ঠ, আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, সংবাদ, ভোরের কাগজ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমাদের সময়, ডেসটিনি, মানবজমিন, যায়যায়দিন, খবর, নিউ নেশন, নিউজ টুডে, ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য ডেইলি সান, দ্য ডেইলি স্টার, নিউএজ ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এঙ্প্রেস।

সংবিধানে বিসমিল্লাহ'র বিপক্ষে বুদ্ধিজীবীরা : আওয়ামী লীগ বিশ্বাসঘাতক -শাহরিয়ার কবির

৩ মে (রেডিও তেহরান) : একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহি সভাপতি শাহরিয়ার কবির সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগকে 'বিশ্বাসঘাতক'আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'সংশোধিত সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ রেখে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।' 

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির ২১তম বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্মীয় রাজনীতি সংবিধানে থাকতে পারে না। আমরা কমিটির কাছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছি। একই বিষয়ে কবি সৈয়দ শামসুল হক বলেছেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান '৭২-র সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম বাদ রেখে যদি নিজেকে মুসলমান প্রমাণ করতে পারেন তাহলে এখন সমস্যা কোথায় ?'
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেকবার সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেয়ার এবং ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বললেও সম্প্রতি তারা জনমতের বিষয়টি বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধন কমিটির কাছে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার পক্ষে অভিমত দিয়েছে। এছাড়া, তারা ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই শাহরিয়ার কবিরসহ আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবীরা সরকারের সমালোচনা শুরু করেছেন।
এদিকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও সংবিধান সংশোধন কমিটির আজকের বৈঠকে মিশ্র প্রস্তাব এসেছে। অনেকে বলেছেন, এই ব্যবস্থার দরকার নেই। আবার কেউ বলেছেন, দুই মেয়াদের পর এই বিধান উঠয়ে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।' তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বড় দুইটিসহ সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে কোনো লাভ হবে না।'
অন্যদিকে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘সংবিধানে জাতির জনক ও ঘোষকের নাম যুক্ত করা উচিত নয়। এ বিষয়টি যাতে না থাকে সেজন্য কমিটির কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমি বলেছি, এমন কোনো বিধান রাখা যাবে না যাতে পরবর্তী সরকার এসে তা পরিবর্তন করতে পারে।'
গত ২৮ এপ্রিল সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির মুখপাত্র সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে এ বৈঠকের কথা সাংবাদিকদের জানান। আগামীকাল বুধবার পত্রিকার সম্পাদকদের মতামত নেবে কমিটি। #

তেহরান রেডিও/ এআর/এমএইচ/৩-১৭-এন {jcomments on}

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সুপারিশ : বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা যাবে না

সংসদ রিপোর্টার

সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল না রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন আওয়ামীপন্থী কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। তাদের মতে, সংবিধানের চার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ বিষয়গুলো রাখা যাবে না। দু’একজন বুদ্ধিজীবী আবার রাষ্ট্রধর্মের বিরোধিতা করলেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে বুদ্ধিজীবীদের কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংশোধনের জন্য দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তন বা সংশোধন একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। এ বিষয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দল একমত না হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা অর্থবহ হবে না; বরং এতে সংঘাত-সংঘর্ষ আরও বাড়বে। কেউ কেউ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রস্তাব দেন। একজন বুদ্ধিজীবী বিতর্ক এড়াতে সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের এসব বুদ্ধিজীবী তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বিশেষ কমিটির সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে ১১টার দিকে এ সভা শুরু হয়ে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত চলে। বৈঠকে ২৬ জন বুদ্ধিজীবীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের মধ্যে ১৯ জন কমিটির সামনে তাদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংশোধন, রাষ্ট্রধর্ম, ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের মূলনীতি, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা, মৌলিক অধিকার, সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও জাতির জনকের নাম অন্তর্ভুক্তি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটদান, নারী আসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বুদ্ধিজীবীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান, সাবেক উপদেষ্টা এএসএম শাহজাহান, টিআইবি চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সদস্য সচিব ড. বদিউল আলম মজুমদার, সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, কবি সৈয়দ শামসুল হক, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) নেতা শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান অংশ নেন। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণ পেলেও অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ড. অজয় রায়, সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ অংশ নেননি।
কবীর চৌধুরী : বৈঠক থেকে বেরিয়ে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্মীয় রাজনীতি সংবিধানে থাকতে পারে না। তিনি ’৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো বাদ দেয়ার সুপারিশ করেছেন উল্লেখ করে বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ সংবিধান থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও ধর্মের অপব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দেন। তিনি মৌলিক অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলেছেন বলে জানান।
কবীর চৌধুরী জানান, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আজ মিশ্র প্রস্তাব এসেছে। অনেকে বলছেন এই ব্যবস্থার দরকার নেই। অনেকে বলেছেন দুই মেয়াদের পর এই বিধান উঠিয়ে দেয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ।
আকবর আলি খান : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। এটার জন্য বড় দুটি রাজনৈতিক দল একমত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে কোনো লাভ হবে না বরং সংঘাত আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতা করে সংশোধন করা উচিত। এ সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও তাদের বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতার পথ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন পদ্ধতি বলতে যা আছে তাতে জালিয়াতি হয়। এতে সঠিকভাবে জনমত প্রতিফলিত হয় না। এজন্য কী ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতাই নেই। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তার মতে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি প্রধানমন্ত্রীর কোনো সুপারিশে একমত না হন তবে তা পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদে পাঠানোর বিধান রাখার প্রস্তাব করেছি।
রেহমান সোবহান : আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার কথা বলেছি। তার মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব উপদেষ্টা নির্দলীয় না হোক অন্তত নিরপেক্ষ হতে হবে।
সুলতানা কামাল : অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে রেহমান সোবহানের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি মানুষের পূর্ণ আস্থা নেই। এ অবস্থান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তবে যতদিন এটা বহাল থাকছে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মনোনীত করতে হবে। প্রধান বিচারককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তার মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের ক্ষেত্রে বাজেট সংক্রান্ত এবং অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি বাদ রেখে বাকি বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবার দরকার আছে। তিনি বলেন, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেয়ার বিধান যুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ : সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সংবিধানে জাতির জনক ও ঘোষকের নাম যুক্ত করা উচিত নয়। এ বিষয়টি যাতে না থাকে সেজন্য কমিটির কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি জানান, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, স্পর্শকাতর বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে অন্যদের ইস্যু তৈরির সুযোগ যেন না দেয়া হয়। মুজিবনগর সরকারের ওই দিনটি সংবিধানে থাকলেই চলে। আমি বলেছি, এমন কোনো বিধান রাখা যাবে না যাতে পরবর্তী সরকার এসে তা পরিবর্তন করতে পারে। এছাড়া তিনি সংবিধান সংশোধনে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সমর্থনের স্থলে তিন-চতুর্থাংশ রাখার প্রস্তাব করেছেন।
আবুল মকসুদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ানোর বিরোধিতা করেছি। মনোনয়ন বাড়িয়ে সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছি।
আসিফ নজরুল : অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তার প্রস্তাবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল চালু রাখার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম এক সঙ্গে থাকতে পারে না। তাই আমি বলেছি, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাখা হলে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে, অবশ্যই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ থাকা উচিত। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অতিমাত্রায় ক্ষমতা ভোগ করছে মন্তব্য করে আসিফ নজরুল তার প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলেন। তিনি বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে ’৭২ সালের সংবিধানের বিধান হুবহু প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের মতামত নেয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করেন। তিনি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি সংসদে উত্থাপনের বিধান রাখার প্রস্তাব দেন।
সৈয়দ শামসুল হক : আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী কবি সৈয়দ শামসুল হক বলেন, রাষ্ট্রধর্ম, বিসমিল্লাহ ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাহাত্তরের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এগুলো সংবিধানে রাখা যাবে না। দুই জেনারেল (জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদ) সম্পূর্ণ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটা ছিল তাদের মতলবি কাজ। এখন সেটা করার তো দরকার নেই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ’৭২-এর সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম বাদ রেখে যদি নিজেকে মুসলমান প্রমাণ করতে পারেন তবে এখন কিসের সমস্যা?
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নাগরিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব মৌলিক অধিকার সংবিধানে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান আরও নমনীয় করা দরকার বলে আমরা জানিয়েছি।
তিনি রাষ্ট্রধর্মের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কোনো বিশেষ ধর্মকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।
আরেফিন সিদ্দিক : অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক সংবিধান সংশোধনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রস্তাব সমর্থন করেছেন বলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের জাতীয় দলিল। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহন করে। তাই এই বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কমিটিতে অভিমত দিয়েছি। এছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্ধারিত ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে সংসদ পুনরুজ্জীবিত করে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করেছি। পাশাপাশি তিনি ৭ মার্চের ভাষণকে সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব করেন।
ড. মিজানুর রহমান : ড. মিজানুর রহমান সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ওই অনুচ্ছেদে লেখা আছে—কোনো নাগরিকের প্রতি অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। এই বিষয়টির সঙ্গে যদি এটি লঙ্ঘন করা হয় তাহলে ওই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য এটা অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে আমি মত দিয়েছি।
এবিএম মূসা : প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে। এই খণ্ডকালীন সরকারকে নির্দলীয় বলা হলেও ‘নিরপেক্ষ’ কোথাও উল্লেখ নেই। এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য কমিটিকে পরামর্শ দিয়েছি।
শাহরিয়ার কবির : আওয়ামী লীগকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে বিশেষ কমিটির বৈঠকে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী ও ঘাদানিক নেতা শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেছেন, সংশোধিত সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়ে দলটি (আওয়ামী লীগ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে শাহরিয়ার কবির উত্থাপিত ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালত ৫ম সংশোধনী বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে আদি সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপিত হয়েছে। ৫ম ও ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ যুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, ওই সংশোধনী দুটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যার সঙ্গে ইসলামপ্রীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
ড. বদিউল আলম মজুমদার : আওয়ামী বুদ্ধিজীবী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারও রাষ্ট্রধর্মের বিরোধিতা করে বৈঠকে বলেন, একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধান আর অন্যদিকে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে রাখা সাংঘর্ষিক। তাছাড়া রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান করলে সেটা সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হবে। তিনি বলেন, সংবিধান শুধু বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক আর বিশিষ্টজনদের জন্য নয়; এর মালিক জনগণ। তাই এটি সংশোধনের আগে তাদের মতামত নেয়ার সুপারিশ করেছি।
এম হাফিজউদ্দিন আহমদ : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন আহমদ জানান, একমাত্র তিনিই সবার মতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব রেখেছেন। তিনি বলেন, ওই তিনটি (বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মভিত্তিক দল) বিষয়ে আমি তাদের সঙ্গে (বিশেষ কমিটির আমন্ত্রিত) একমত, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এগুলোর বিরুদ্ধে বলেছিও। কিন্তু বৈঠকে এবার জানিয়েছি, এখন সংশোধনীতে এসব বাদ দিলে নতুন করে গণ্ডগোল লাগবে, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ‘বাস্তবতা’ বিবেচনায় বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মভিত্তিক দলের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়ার কথা জানান এম হাফিজউদ্দিন।
আজ সম্পাদকদের মতামত : আজ সকালে বিশেষ কমিটি দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে ২০টি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদককে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যেসব পত্রিকার সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেগুলো হলো—প্রথম আলো, আমার দেশ, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, দৈনিক ইত্তেফাক, ইনকিলাব, দিনকাল, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নয়া দিগন্ত, মানবজমিন, আমাদের সময়, জনকণ্ঠ, সমকাল, খবর, ডেইলি স্টার, নিউ নেশন, নিউএজ, ইনডিপেন্ডেন্ট, যায়যায়দিন, সংবাদ, ডেসটিনি, ভোরের কাগজ, নিউজ টুডে ও ডেইলি সান।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে। ২৫ এপ্রিল প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় কমিটি। তবে বিএনপি ওই বৈঠকে অংশ নেয়নি।
আমারদেশ ০৪.০৫.২০১১

কে এই রাজাকারের দালাল তুহিন মালিক!!!



কে এই তুহিন মালিক অথবা রাজাকারের দালাল তুহিন মালিক- এ ধরনের এখনো নিউজ না হওয়ায় আমি স্তম্ভিত!!!

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে যুবলীগের মহিলা ক্যাডার (পিস্তলের জোরে নাকি এমপি অইছে- নিন্দুকে কয়) নাজমা আক্তার বলেন, ৬ ই মে রাতে যদি গণহত্যা হয় তাহলে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা কোথায়? জবাবে সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী এডভোকেট তুহিন মালিক বলেন, তাদের বেশিরভাগই এতিম এবং গ্রাম থেকে আসা, তাদের খবর নেওয়ার কেউ নেই। আর যারা খবর নিত তাদেরকে (আলেম-ওলামা) আপনারা মামলা দিয়ে রেখেছেন। (যা বলছেন বলছেন, আরও খুশি অইতাম যদি বলতেন- যে সকল সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করতো তাদেরকে তো বন্ধ করে দিলেন, আর গুলানতে আপনাদের পাচাটতেই সময় পায় না)

এছাড়া, কোরআন পোড়ানো প্রসঙ্গে তুহিন মালিক বলেন, ছাত্রলীগ দ্বারা যেমন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙ্গা অসম্ভব তেমনি হেফাজতের কর্মীদের দ্বারাও কোরআন পোড়ানো অসম্ভব।

আমার দুঃখ অইলো ভূমিদস্যুদের মাল খাইয়া বড় হওয়া বাংলানিবুজ অথবা নিয়মিত লাঞ্চিত এটিএন নিউজ (অবশ্যই মুন্নি জাওয়ানির সুবাদে) কেন এখনও ‘কে এই তুহিন মালিক’ অথবা ‘রাজাকারের দালাল তুহিন মালিক’ শিরোনামে নিউজ করলো না।

বাংলানিউজ আর এটিএননিউজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

পিলিস এই শিরোনানেম নিউজ কইরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনারে আরেকবার ধর্ষণ করেন।

মা ও মেয়ের স্বামী একজন


মা ও মেয়ের স্বামী একজনই! অবিশ্বাস্য হলেও বাংলাদেশের সত্য এই খবরটি এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত। 

মা’র নাম মিত্তামোনি। তিনি এখন ৫১ বছর বয়সী। তার মেয়ে ওরোলা ডালবোট। তার বয়স ৩০ বছর। এই মা ও মেয়ের একজনই স্বামী। তার নাম নোতেন।

ঘটনা বাংলাদেশের উত্তর-মধ্যমাঞ্চলের মান্দি উপজাতি গোষ্ঠীতে। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সুপরিচিত ম্যাগাজিন ম্যারি ক্লেয়ার। এতে বলা হয়, ওরোলা ডালবোট কিছু বুঝতে শেখার আগেই তার জন্মদাতা পিতাকে হারান। 

তারপর তার মা মিত্তামোনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার এ স্বামীর নাম নোতেন। তার আদরেই বড় হতে থাকে ওরোলা। নোতেন দেখতে শুনতে সুশ্রী। তার মুখভরা হাসি। ওরালো যখন বড় হতে থাকেন তখন নোতেনকে দেখে ভাবতে থাকেন তার মা কত ভাগ্যবান। নোতেনের মতো সুদর্শন একজন স্বামী কল্পনা করতে থাকেন ওরালো। 

কিন্তু যখন তার মধ্যে বয়ঃসন্ধিক্ষণ আসে তখন অবাক হয়ে যান একটি তথ্য শুনে। তা হলো ওরালো শিশু থাকতেই তার মা যখন নোতেনকে বিয়ে করেছেন সেই একই অনুষ্ঠানে নোতেনের সঙ্গে ওরালোরও বিয়ে হয়ে গেছে। তখন ওরালোর বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর। অর্থাৎ ওরালোও এখন নোতেনের স্ত্রী। 

মান্দি উপজাতির প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী এখন মা ও মেয়ে দু’জনেই নোতেনের স্ত্রী। সে অবস্থায়ই তারা ঘর-সংসার করছেন। নোতেনের সঙ্গে নিজের বিয়ের খবর জানতে পেরে ওরোলা বিস্মিত হয়েছিলেন।

ওরোলা ডালবোট বলেছেন, আমি একথা শোনার পর দৌড়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু এ সময় তার মা মিত্তামোনি এগিয়ে আসেন। মেয়ের পাশে দাঁড়ান। তিনি তাকে বোঝান এটা তাদের জাতির প্রথা। তাকে নোতেনকে মেনে নিতেই হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতে দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় যেসব মান্দি উপজাতি বসবাস করে তাদের মধ্যে বিয়ের এমন রীতি প্রচলিত আছে। তাদের মধ্যে কোন নারী যদি বিধবা হন এবং তিনি ফের বিয়ে করতে চান তাহলে তাকে তার প্রয়াত স্বামীর কুল থেকে একজন পুরুষকে বেছে নিতে হয় স্বামী হিসেবে। কিন্তু মান্দিদের মধ্যে একা আছেন অথবা বিয়ে করেননি এমন পুরুষ বেশির ভাগই হন যুবক। ফলে তাদেরকে যদি কোন বিধবা বিয়ে করেন তাহলে তাকে নতুন এ স্বামীর জন্য ছাড় দিতে হয়। 

একই সঙ্গে তার কন্যাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে কবুল করতে প্রস্তাব দেয়া হয়। বলা হয়, তার মেয়ে যখন পরিণত বয়সে পৌঁছবে তখন তার সঙ্গে সে দম্পতি হিসেবে দিনযাপন করবে। এমন প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলে ওই বিধবা ও তার কন্যার সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে বিয়ে হয় একজন মাত্র পুরুষের। ওরোলা ও মিত্তামোনি এমনই এক বিয়ের মাধ্যমে নোতেনের স্ত্রী। ওরোলা বলেছেন, আমার জন্মদাতা পিতা যখন মারা যান তখন মা’র বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। তিনি একাকী বাকি জীবন কাটানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তখন তাদের মান্দি উপজাতির প্রথা অনুযায়ী নোতেনকে প্রস্তাব করা হয় মিত্তামোনিকে বিয়ে করতে। তখন নোতেনের বয়স মাত্র ১৭ বছর। তবে বিয়েতে শর্ত দেয়া হয়, একই সঙ্গে ওরোলাকেও বিয়ে করতে হবে। সে মতে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে ওরোলা বলেন, আমি তখন এত ছোট ছিলাম যে, বিয়ের কথাটি আমার মনেই নেই। কিভাবে কি হয়েছিল আমি বলতেই পারবো না। 

নোতেনের সঙ্গে মিত্তামোনি দু’সন্তানের মা হয়েছেন। তাই কখনও কখনও ওরোলা একান্তে নিজের করে একজন স্বামীর কথা চিন্তা করেন। কিন্তু তিনি তা ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। 
ওরোলার চোখে তার সঙ্গে এটা এক রকম চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত। মান্দি নারীরা সাধারণত তাদের নিজেদের পছন্দমতো পুরুষকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। তাদের বিয়ের রীতি অনুযায়ী নারীরাই পরিবারের প্রধান। সমস্ত সহায় সম্পত্তির মালিক। প্রথমে যে নারী বিয়ে করবেন তিনি একটি রোমান্টিক ভাব নেন এবং তারপরেই বিয়ের প্রস্তাব করেন। এভাবে ওরোলা-ও একজন উপযুক্ত পুরুষকে বেছে নেয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারলেন নোতেন তার সৎপিতা নন, তার স্বামী। তখন মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মায়ের সঙ্গে মা-মেয়ের সম্পর্কে টান পড়ে। 

ওরোলা বলেন, তখন থেকেই মাকে আমার কাছে আর মা মনে হয় না। এখন তার কোন পরামর্শই আমি আর শুনতে চাই না। আমার মনে হচ্ছে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমার জীবনকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আমার বয়স যখন ১৫ বছর তখনই নোতেন আমাকে তার সঙ্গী হিসেবে পেতে চেষ্টা করে। তা সহ্য করতে পারছিলেন না মা। তাই একদিন জঙ্গল থেকে গাছগাছড়া এনে তা আমার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেন তিনি। তাতে আমার ভীষণ বমি হয়। এই সুযোগ নিয়ে সেই রাতে নোতেনের সঙ্গে কাটিয়ে দেন মিত্তামোনি। সেই থেকে তাদের সম্পর্ক আরও খারাপ। ওরোলাও বেঁকে বসেছেন।

নোতেনের স্ত্রীর অবস্থানের বিরোধিতা করে নিজের মতো করে চলা শুরু করেছেন। দিনের বেলা তিনি মধুপুর শহরে ছুটে যান। বাংলা সিনেমা দেখেন। পারিবারিক অর্থ দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার কেনেন। ওরোলা বলেন, আমি জানি নিজের ইচ্ছামতো কোনদিন একজন পুরুষকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারবো না, যে আমাকে উপহার কিনে দেবে। তাই নিজের উপহার এখন নিজেই কিনি। ওরোলা এখন তার বান্ধবীদের থেকেও নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। 

তিনি বলেন, বান্ধবীরা শুধু ছেলেদের নিয়ে গল্প করে সময় কাটায়। তাদের সঙ্গে আমি যোগ দিতে পারি না। এই একাকিত্ব থেকে এক সময় ওরোলা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখনই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। সন্তানের মা হতে চলেছেন। এতে তার সামনে নতুন এক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। তিনি আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরে আসেন। এসব শুনে তার মা মিত্তামোনির কি কোন অনুশোচনা হয়, তিনি কি নিজেকে দোষী মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মিত্তামোনি বলেছেন, না। মোটেও না। আমি নিজেকে দোষী মনে করি না। ওই বিয়েটা অবশ্যই অতি জরুরি ছিল। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার পক্ষে একা দিন কাটানো সম্ভব ছিল না। তখন নোতেন ছিল গোত্রের মধ্যে একমাত্র অবিবাহিত। মান্দিদের বিয়ের বৈধ বয়স ১৮ বছর হলেও তখনকার ১৭ বছর বয়সী নোতেনকেই তার স্বামী হিসেবে বেছে নিতে হয়েছিল। এর কোন বিকল্প তার সামনে ছিল না। তাই একই সঙ্গে ওরোলাকে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল নোতেনকে।

ফলে ওরোলা যখন বড় হতে থাকে তখন তার প্রতি নোতেনের আকর্ষণ বাড়তে থাকে। আমি তখন একপেশে হয়ে পড়ি। এ বিষয়টি আমার কাছে ছিল ভীষণ বেদনার। ওরোলা ও মিত্তামোনির মতো মান্দি সমাজে অনেক মা-মেয়ে আছেন যারা একই স্বামীর ঘর-সংসার করেন। তাদের মধ্যে পারভিন রেমা (৩৬) একজন। তিনি যখন ১৩ বছর বয়সী তখন তার বিধবা মায়ের সঙ্গে ১৮ বছর বয়সী এক যুবককে স্বামী হিসেবে বিয়ে করেন। 

রেমা বলেন, এটা আমাকে মেনে নিতে হয়েছিল। কিন্তু আমার ভিতরে ছিল অন্য কথা। আমার মনে হচ্ছিল বিয়ের পর আমার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন আমার মায়ের বয়স ছিল ৩৬ বছর। আমি বুঝতে পারছিলাম না কেন তিনি এত কমবয়সী একজনকে বিয়ে করলেন। এরপর আস্তে আস্তে আমি পরিবারের কর্তৃত্ব নিতে থাকি। স্বামীর কাছ থেকে মাকে আলাদা করে দিতে কৌশল নিই।

প্রথম তিন বছর তার সাহচর্য পেয়েছিলেন মা। তারপর আমি এমন কৌশল নিই যাতে আমাদের স্বামী তার প্রতি আকর্ষণ হারায়। আমি তার জন্য মজাদার খাবার রান্না করতে থাকি। যখনই আমাকে কাছে চায় তখন কোন সময়ের জন্য তাকে না বলি না। এর দু’এক বছর পরে রেমা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তার নাম রাখা হয় নিতা। নিতার বয়স এখন ১৪ বছর। 

পারভিন রেমা বলেন, যখনই এখন নিতার দিকে তাকাই তখনই আমার অতীতের কথা মনে পড়ে যায়। আমি ভাবি মা আমাকে কিভাবে জোর করে বিয়ে দিয়ে আমাকে শেষ করে দিয়েছেন। তখন আমার খুব রাগ হয়। মন খারাপ হয়ে যায়। মার মতো একই কাজ কি আমি আমার মেয়ের জন্য করবো? রেমা বলেন- না। কারণ, নিতার জীবন সম্পর্কে অনেক পছন্দ থাকতে পারে। আশায় তার বুক ভরা। আমি নিতাকে কলেজে পাঠাতে চাই যাতে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কাকে সে বিয়ে করবে। নিতা এখন স্কুলে পড়ে। তার পরিবারের অস্বাভাবিক সম্পর্কের কারণে সহপাঠীরা তাকে তিরস্কার করে। 

আচিক বিচিক সংস্থার প্রধান বয়সী নারী সুলেখা ম্রোং বলেন, যুবতীদের জন্য এ প্রথা ভীষণ রকম অবিচার। তাদেরকে কোন পছন্দ দেয়া হয় না। মায়ের সঙ্গে মেয়ের স্বামী ভাগ করে নেয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে মানসিক এক যাতনা হয়। এ জন্য সামপ্রতিক সময়ে এমন বিয়ে এড়াতে অনেক যুবতী এলাকা থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে এসেছেন। তারা কেউ পরিচারিকা না হয় বিউটিশিয়ান। সামপ্রতিক সময়ে অনেক পর্যবেক্ষক দেখতে পেয়েছেন মা-মেয়ের এমন বিয়ের রীতি অনেকটা কমে এসেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, এ উপজাতির ২৫ হাজার বাংলাদেশীর শতকরা ৯০ ভাগকে ক্যাথলিক মিশনারিগুলো ধর্মান্তরিত করাতে পেরেছে।