Thursday, 11 July 2013
জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের দিকে কারও নজর নেই
রানা প্লাজা ধস এবং তাজরীন ফ্যাশনসে আগুনের ঘটনার পর বহির্বিশ্বের চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাতের শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু জাহাজভাঙা শিল্পে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। এদিকে কারও নজর নেই। গত মঙ্গলবার টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম উপকূলজুড়ে জাহাজভাঙার কাজ করে প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান। এ খাত থেকে বাংলাদেশ বছরে আয় করে প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এ খাত থেকে প্রাপ্ত লোহা দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশের জোগান দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এ শিল্পের শ্রমিকেরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। তাঁদের থাকে না পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহত হচ্ছেন স্বল্প মজুরিতে কাজ করা ওই সব শ্রমিক। শিশু শ্রমিকদেরও এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভাঙা জাহাজ থেকে দূষিত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে সৈকতের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পের কাজের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে ব্রাসেলসভিত্তিক শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম। তাদের হিসাবে, বাংলাদেশের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের এই শিল্পে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গত বছর অন্তত ১৫ জন নিহত হন। টাইম-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাহাজভাঙার কারখানাগুলোতে সাধারণত গণমাধ্যমকর্মীদের যেতে দেওয়া হয় না। এই প্রতিবেদক নৌকা ভাড়া করে চট্টগ্রাম উপকূলে জাহাজভাঙা কারখানাগুলোর আশপাশ দিয়ে ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে শ্রমিকেরা নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। অধিকাংশ শ্রমিকের এ কাজের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নেই। ২৬ বছর বয়সী একজন শ্রমিক সাত বছর ধরে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করছেন। কয়েক মাস আগের একটি দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে করতে আমি দেখলাম, চারতলা উঁচু একটি জাহাজের ওপর কাটার কাজ করতে করতে একজন নিচে পড়ল।’ ওই হতভাগ্য ব্যক্তির কপালে কী ঘটেছিল, তা বলতে পারেননি ওই শ্রমিক। আরেকজন শ্রমিক প্রায় এক দশক আগের আরেকটি দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণা করে বলেন, প্রায় ৪০ হাজার টন ওজনের একটি অয়েল ট্যাংকার আনা হয় শিপইয়ার্ডে। ট্যাংকারের ভেতরে বিভিন্ন খোপে তখনো জমা ছিল উচ্চ দাহ্য পদার্থ। জাহাজটি কাটার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন নিহত হন বলে ওই শ্রমিক জানান। এই শিল্পের মালিকেরাও শ্রমিকদের ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁরা দাবি করেন, বাইরের চাপে তাঁরা এ বিষয়ে নজর দিয়েছেন এবং কাজের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment