Friday, 31 May 2013

সৈয়দজাদারা হিন্দুও নন, মুসলমানও নন : ভয় বাড়ছে মুসলমানদের

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন সংকট ঘনীভূত হচ্ছে তেমন এক জটিল সময়ে মতাসীনরা সুচিন্তিতভাবে সংকটকে সংঘাতমুখী করার পদপে নিয়ে চলেছেন। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে একদিকে তারা উস্কানিমূলক নানা কথা বলছেন ও বিবৃতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রকাশ্যে আসছে তাদের অন্তরালের মিত্রশক্তির বিভিন্ন অপকীর্তি। এই মিত্রশক্তিও সরাসরি উস্কানিদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের ৯০ শতাংশের বেশি নাগরিক মুসলমানরা।

এ ব্যাপারে মতাসীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পর প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তÑ যাকে সংবিধান বিষয়ক আওয়ামী ‘মোড়ল’ বলা হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও। দলের মুখপাত্র হিসেবে সময়ে সময়ে এমন কিছু বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন যেগুলো বিতর্কের শুধু নয়, তীব্র সমালোচনারও কারণ ঘটাচ্ছে। যেমন গত ১৩ জুলাই তার কাছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পর্কে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেদিন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ‘হিন্দুও নন, মুসলমানও নন’! তার জবাব শুনে লা-জবাব হয়ে গেছেন সকলে, এমনকি কট্টর আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকরাও। কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের গুণধর এই পুত্রের কাছে এ ধরনের জবাব কেউ আশা করেননি।

প্রশ্ন উঠেছে, নামে মুসলমান এই ‘সৈয়দজাদা’ মুসলমান তো বটেই, যদি হিন্দুও না হয়ে থাকেন তাহলে তিনি ঠিক কোন ধর্মে বিশ্বাসী? সেটা কি তাহলে শিখ ধর্ম? কারণ, শোনা যায়, সৈয়দ আশরাফ ভারতীয় এক শিখ রমণীকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। মা ও মেয়ে বসবাস করেন লন্ডনেÑ যেখানে প্রায়ই জনগণের অর্থ ব্যয় করে উড়াল দিয়ে চলে যান সৈয়দ আশরাফ। প্রশ্ন ওঠার অন্য এক কারণ হলো, বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের সব মানুষই কঠিনভাবে ধর্মে বিশ্বাসী। তাছাড়া এমনিতেও দেশনির্বিশেষে মানুষ মাত্রই ধর্ম মেনে চলে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত ও আধুনিক দেশের প্রেসিডেন্টকেও শপথ নিতে হয় খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল হাতে নিয়ে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামাকেও বাইবেল হাতে নিয়েই শপথ পাঠ করতে হয়েছিল। অর্থাৎ যতো উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্রের মানুষই হোন না কেন, প্রত্যেকেই যার-যার ধর্ম মেনে চলেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ ধর্ম থাকে না কেবল গরু-ছাগল ও ভেড়া ধরনের পশু ও প্রাণীদের। মানুষকে কোনো না কোনো ধর্ম মানতেই হয়। কিন্তু আমাদের এই সৈয়দজাদা ‘ডিজিটাল’ রাজনীতিক বলেই সম্ভবত ধর্মের ব্যাপারে নাক একেবারে উল্টে ফেলার অভিনয় করেছেন।

অভিনয় কথাটা অকারণে বলা হচ্ছে না। একটু খোঁজ-খবর করলেই থলের বেড়াল বেরিয়ে পড়বে। তখন হয়তো জানা যাবে, ভারতের শিখ রমণীকে বিয়ে করতে গিয়ে সৈয়দজাদাকে তার বাপ-দাদার ধর্ম পরিত্যাগ করতে হয়েছিল। কারণ, এই বিয়েরও পেছনে রয়েছে মুসলিমবিরোধী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সৈয়দ আশরাফই একমাত্র ব্যক্তি নন। বাংলাদেশের মুসলমানবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে ভারতের পাশাপাশি পাশ্চাত্যের কয়েকটি রাষ্ট্রও অনেকদিন ধরেই পা বাড়িয়ে চলেছে। সে কারণেই এদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের একাধিক বিশেষজনের গুণধর পুত্ররা একের পর এক ইহুদী রমণীদের বিয়ে করছেন। তাদের ঘরে সন্তানও জন্ম নিচ্ছে। বাড়ছে বাংলাদেশি ইহুদি নাগরিকদের সংখ্যা। তারা আবার যেন-তেন নাগরিক নয়। এক সময় এই ইহুদি নাগরিকদেরকেই উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রমতায় অধিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারত এবং পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রগুলোর।

এজন্যই উদ্বেগ বেড়ে চলেছে দেশপ্রেমিক মুসলমানদের মধ্যে। সৈয়দ আশরাফের মন্তব্যের পরিপ্রেেিত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা। যেমন চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ রেজাউল করিম ১৫ জুলাই বলেছেন, সৈয়দ আশরাফ ‘আমি হিন্দুও নই, মুসলমানও নই’ বলায় আওয়ামী লীগের আসল চরিত্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে তাহলে তারা নাস্তিক-মুরতাদ। এই নাস্তিক-মুরতাদদের জানাযা এবং মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন হবে না। তারা নির্যাতনের পথে ফেরাউন, নমরুদ ও আবু লাহাবের ভূমিকায় নেমেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে মনে রাখতে হবে, তারা নমরুদদের চাইতে বড় শক্তি নয়। আল্লাহ নমরুদদের নির্মমভাবে নিশ্চিহ্ন করেছিলেন। তেমনি সৈয়দ আশরাফরাও ধ্বংস হয়ে যাবেন।

একই ধরনের বক্তব্য এসেছে আরো অনেকের প থেকে। এসবের মূলকথায় আওয়ামী লীগের ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী গোপন উদ্দেশ্যের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। বস্তুত এ শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য বলা হচ্ছে না, বাস্তবেও সত্য হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে পাস করা এই সংশোধনীর মাধ্যমে অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরও কঠিন আঘাত হেনেছে সরকার। এতে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ নাগরিক মুসলমানদের চিন্তা, বিশ্বাস ও আকাক্সাবিরোধী অনেক বিষয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যেমন সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ রাখা হলেও ব্র্যাকেটে দুটি অনুবাদ দেয়া হয়েছে যার দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ এবং মুসলমানদের জন্য আপত্তিজনক। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নেতৃত্বে মতাসীনরা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’-এর অনুবাদ করেছেন ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’। অথচ রাহমান বা রাহীমের অর্থ ‘করুণাময় সৃষ্টিকর্তা’ নয়। তাছাড়া ‘করুণাময় সৃষ্টিকর্তা’ কথাটা প্রধানত অমুসলমানরা বলে থাকে, মুসলমানরা নয়। এর পাশাপাশি সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’কেও বাদ দিয়েছেন মতাসীনরা। পরিবর্তে ধর্মনিরপেতাকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারেও চাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তরা। সংবিধানের এ সংক্রান্ত ২(ক) অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে তারা লিখেছেন, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম; তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবে।

পঞ্চদশ সংশোধীতে অন্তর্ভুক্ত এ ধরনের বিধি-বিধানের পাশাপাশি যদি সৈয়দ আশরাফের কথাটাকে মিলিয়ে দেখা হয় তাহলে ভীত-আতঙ্কিত না হয়ে পারা যায় না। পাশাপাশি এমন অনেক ঘটনাও ঘটছে যেগুলোর কারণে মানুষের মুখে মুখে এখন সঙ্গত একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরছে। প্রশ্নটি হলো, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়? প্রশ্নের কারণও কিন্তু মতাসীনরা এবং তাদের দোসররাই সৃষ্টি করছে। উদাহরণ দেয়ার জন্য দেশের জনপ্রশাসনের কথাই উল্লেখ করা যাক। মতায় আসার পরদিন থেকে সরকার একদিকে দলীয় বিবেচনায় ঢালাওভাবে পদোন্নতি ও নিযুক্তি দিয়ে চলেছে, অন্যদিকে অনেককে চাকরিচ্যুত, বঞ্চিত ও অসম্মানিত করেছে। এখনো করছে। প্রথম পে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত অফিসাররা। মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সিনিয়রিটি থাকুক না থাকুক সরকারের সমর্থক অফিসাররা পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন পদে নিযুক্তি পেয়েছেন, এখনো পাচ্ছেন। ধর্মীয় পরিচিতিকেও বিশেষ গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ ৭০টিরও বেশি পদে বসানো হয়েছে বিশেষ সম্প্রদায়ের অফিসারদের। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পাশাপাশি ইউএনও এবং এসি ও ওসিসহ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও বেছে বেছে বিশেষ ধর্মের লোকজনকেই বসিয়েছে সরকার। অথচ জনসংখ্যার অনুপাতে এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসহ চাকরির শর্তপূরণের বিচারে এত বেশি সংখ্যক অমুসলিম অফিসারের এভাবে পদোন্নতি এবং স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্তি পাওয়ার কথা নয়। অভিযোগ উঠেছে, অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যভাবে সংশিষ্ট বিভিন্ন করপোরেশনের শীর্ষ পদে আসীন এসব অমুসলিম অফিসারের অনেকে রাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য পাচার করে দিচ্ছেন। তাদের দেশপ্রেমহীন কার্যকলাপে জাতীয় অর্থনীতির সর্বনাশ ঘটছে, বিঘিœত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাও। এর ফলে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার শিকড় মজবুত হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সমর্থক মুসলমান অফিসারদের মধ্যেও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে।

রাষ্ট্রদূতের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের প্রতিনিধিত্বকারীর চাকরিতেও সুচিন্তিতভাবে কট্টর মুসলিম বিরোধীদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। উদাহরণের জন্য বেশি দূরে যাওয়ার বা বেশি খোঁজ-খবর করার পরিবর্তে নেপালে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নিমচন্দ্র ভৌমিকের কথা উল্লেখ করা যায়। তার প্রধান পরিচয়, তিনি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। নেপালে যাওয়ার পর থেকেই নারী কেলেংকারী শুধু নয়, রাজনৈতিক কেলেংকারীতেও জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। এরকম এক অভিযোগে জানা গেছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হলেও একাধিক উপলে নিজের গাড়িতে তিনি ভারতের পতাকা লাগিয়েছেন। নিমচন্দ্রের কারণে নেপালের কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা মাটিতে মিশে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এমনকি আনুষ্ঠানিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দু’ মাস পরও নিমচন্দ্রকে নেপাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়নি। কারণ নাকি নয়াদিল্লির চাপ!

দেশের শিাঙ্গনে ঘটে চলা বিভিন্ন ন্যক্কারজনক অপরাধেরও উল্লেখ করা দরকার। ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের খলনায়ক পরিমল জয়ধর ইতিমধ্যে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। তার সম্পর্কে কথা যতো কম বলা যায় ততো ভালো। কিন্তু যে কথাটা না বলে পারা যায় না তা হলো, এই লম্পটকেও রাজনৈতিক বিবেচনা থেকেই নিযুক্তি দেয়া হয়েছিল। বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি মতাসীনদের দরদ যে একেবারে উথলে উঠছে তার বড় প্রমাণ, পরিমল জয়ধরের সঙ্গে এমন আরো পাঁচজনকে চাকরি দেয়া হয়েছিল যাদের কেউই মুসলমসান নয়। সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে নিযুক্তিপ্রাপ্ত এই পাঁচজন ছিল বরুণচন্দ্র বর্মণ, বাবুল কর্মকার, প্রণব ঘোষ, বিশ্বজিৎ ও বিষ্ণু চন্দ্র। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এ ধরনের নিযুক্তিকে চরম সাম্প্রদায়িক পদপে ছাড়া আর কিছু নিশ্চয়ই বলা যায় না। কথা শুধু এজন্য ওঠেনি। দেখা যাচ্ছে, সুযোগ পেলেই তারা চরম উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। যেমন দেশে যখন পরিমল জয়ধরকে নিয়ে তোলপাড় চলছিল ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর নিজের এলাকা গোপালগঞ্জের আরেক কীর্তিমান শংকর বিশ্বাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কটুক্তি করে বসেছে। এই শংকর টুঙ্গিপাড়া জিটি পাইলট হাই স্কুলের শিক। শংকরের ধৃষ্টতার প্রতিবাদে পুরো গোপলগঞ্জ জেলায় আন্দোলনের ঝড় উঠেছে। বিুব্ধ জনতা তার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার যথারীতি বেয়াদব শংকর বিশ্বাসকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব পালনে সমাপ্তি টেনেছে। পুলিশ শুনিয়েছে আরো চমৎকার কথা। টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি বলেছেন, অপরাধী শংকর বিশ্বাসকে গ্রেফতারের জন্য নাকি ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, পুলিশ এবং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারাই তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জের অন্য এক হিন্দু শিকও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে একই ধরনের কটুক্তি করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তারও কোনো বিচার বা শাস্তি হয়নি। সেও আওয়ামী পুলিশের সহযোগিতায় পালিয়ে গেছে। মুসলিম নেতারা অভিযোগ করেছেন, কোনো একজনেরই বিচার হচ্ছে না বলেই নতুন নতুন শংকর বিশ্বাসরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কটুক্তি করার এবং মুসলমানদের ইমান-আকিদার ওপর আঘাত হানার দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। তাদের ধৃষ্টতা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কর্মকাণ্ড সর্বাত্মক হয়েছিল। এবার সৈয়দ আশরাফ, পরিমল জয়ধর ও শংকর বিশ্বাসরা ময়দানে এসেছেন, সেবার আওয়ামী ঘরানার কবি নামধারী দাউদ হায়দার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লেখার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান দেশ থেকে বহিষ্কারের আড়ালে ওই কুলাঙ্গারকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।

এ ধরনের কোনো ঘটনাকেই বিচ্ছিন্নভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’কে বাদ দেয়া থেকে সৈয়দ আশরাফের আমি ‘হিন্দুও নই, মুসলমানও নই’ পর্যন্ত বক্তব্য ল্য করে দেখুন। পাশাপাশি দেখুন পরিমল জয়ধর ও শংকর বিশ্বাসরা ঔদ্ধত্য দেখানোর জন্য ঠিক এ সময়টিকেই বেছে নিয়েছে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পেটানোর অভিযানে এডিসি হারুনুর রশীদের সঙ্গে যৌথভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে পুলিশের এসি বিপ্লব সরকার। সব মিলিয়েই প্রকাশিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য। সে উদ্দেশ্যের মধ্যে ইসলাম ও মুসলমান বিরোধিতা তো রয়েছেই, অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতকে খুশি করা। মতাসীনরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানদেরকেই দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করতে চান। এজন্যই বেছে বেছে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকেই সংবিধান সংশোধনের কার্যক্রমে ‘মোড়ল’ বানানো হয়েছিল। তিনি করেও দেখিয়েছেন বটে। বলা অপো রাখে না, এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলা হলে মতাসীনরা তাদের শেষ হাসিটি দেখানোরও চেষ্টা করবেন।

No comments:

Post a Comment